প্রযুক্তি যখন মানুষের চিন্তার কাজগুলো নিজের কাঁধে তুলে নেয়, তখন তার মাশুল দিতে হয় মানুষের মস্তিষ্ককে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহারকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) বা চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মস্তিষ্কের সৃজনশীল ও তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ অংশের সক্রিয়তা প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। গবেষকরা একে বলছেন ‘কগনিটিভ সারেন্ডার’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মসমর্পণ।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক নাতালিয়া কসমিনা তার ক্লাসরুমে লক্ষ্য করেন শিক্ষার্থীরা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত পড়া ভুলে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইন্টার্নশিপের জন্য আসা আবেদনপত্রগুলো যাচাই করতে গিয়েও হোঁচট খান তিনি। লক্ষ্য করেন, জমা হওয়া সবগুলো আবেদন প্রায় একই ধাঁচের—অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু প্রাণহীন।
এরপরই শিক্ষার্থীদের ওপর পর্যবেক্ষণ শুরু করেন নাতালিয়া কসমিনা। ৫৪ জন শিক্ষার্থীকে একটি প্রবন্ধ লিখতে দেন তিনি। পরীক্ষায় দেখা যায়, যে শিক্ষার্থীরা চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে প্রবন্ধ লিখেছে, তাদের মস্তিষ্কের তরঙ্গ ছিল অত্যন্ত স্তিমিত। অন্যদিকে, যারা নিজের বুদ্ধিতে লিখেছে তাদের মস্তিষ্ক অনেক বেশি সক্রিয় ছিল। শুধু তাই নয়, এআই ব্যবহারকারীরা তাদের নিজেদের লেখা প্রবন্ধ থেকেও পরবর্তী সময়ে কোনো তথ্য মনে করতে পারেনি।
এ পর্যবেক্ষণ থেকে প্রমাণিত হয়, এআই-এর ওপর নির্ভরতা আমাদের বিচারবুদ্ধি ও সৃজনশীলতাকে স্থবির করে দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এ ‘মানসিক আলস্য’ আমাদের স্মৃতিশক্তির জন্য বড় হুমকি হতে পারে। মস্তিষ্কের গামা ওয়েভ বা গভীর চিন্তার সক্ষমতা কমে যাওয়া ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অনেকটা জিপিএস ব্যবহারের ফলে মানুষের পথ চেনার সহজাত ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো।
তবে এআই কি শুধুই ক্ষতিকর? গবেষকদের বলছেন, এটি নির্ভর করে ব্যবহারের কৌশলের ওপর। তাদের পরামর্শ, মস্তিষ্ককে সচল রাখতে ‘প্রোডাক্টিভ ফ্রিকশন’ বা সৃজনশীল বাধার প্রয়োজন। তাই কোনো বিষয় শেখার শুরুতে এআই ব্যবহার না করে আগে নিজের মেধা প্রয়োগ করা উচিত।



















