২০২৬ সালে এসেও আপনার হাতে থাকা ওয়ানপ্লাস ১১ (OnePlus 11) হয়তো এখনো সচল। তিন বছরের পুরনো এই ফোনটি এখনো দৈনন্দিন কাজগুলো বেশ সাবলীলভাবেই সারছে। অ্যাপগুলো দ্রুত খুলছে, স্ক্রলিং স্মুথ মনে হচ্ছে এবং ফাস্ট চার্জিংও এখনো বেশ নির্ভরযোগ্য। অনেক দিক থেকেই ওয়ানপ্লাস ১১-কে হয়তো খুব একটা সেকেলে মনে হবে না।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আপনার প্রিয় এই ওয়ানপ্লাস ১১ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন কিছুতে আপগ্রেড করার সময় এখনই। কারণটি কেবল বর্তমান পারফরম্যান্স নয়, বরং ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে।
কেন আপগ্রেড করবেন?
প্রথমত, আসন্ন অক্সিজেন ওএস ১৭ (OxygenOS 17) হতে যাচ্ছে ওয়ানপ্লাস ১১-এর জন্য শেষ বড় আপডেট। এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণগুলো আর এই ফোনে পাওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়ত, এর ভেতরে থাকা স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ২ প্রসেসরটি এখন কয়েক প্রজন্ম পিছিয়ে পড়েছে। যদিও সাধারণ ব্যবহারে এটি টের পাওয়া যায় না, তবে নতুন ও ভারি অ্যাপ বা গেমিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাটারি খরচ বেড়ে যাওয়া এবং লোডিং টাইম দীর্ঘ হওয়ার মতো ছোটখাটো সমস্যাগুলো এখন উঁকি দিতে শুরু করেছে।
নতুন ফোনের তালিকায় যা থাকতে পারে:
১. ওয়ানপ্লাস ১৫আর (OnePlus 15R): চিরচেনা অভিজ্ঞতা
যারা ওয়ানপ্লাস ইকোসিস্টেম ছাড়তে চান না, তাদের জন্য ১৫আর হতে পারে আদর্শ। এতে থাকা স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ চিপসেটটি ওয়ানপ্লাস ১১-এর তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং গেমিংয়ে দারুণ থার্মাল ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করে।
বিশেষত্ব: ৭,৪০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি এবং ১২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং (১৫ মিনিটে ৫০% চার্জ)। এর ১৬৫ হার্জ অ্যামোলেড প্যানেল কল অফ ডিউটি বা ব্রল স্টারস-এর মতো গেমারদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
২. আইকিউ ১৫আর (iQOO 15R): পারফরম্যান্সের পাওয়ারহাউজ
এটি মূলত পারফরম্যান্স-নির্ভর ব্যবহারকারীদের জন্য। এতেও রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ চিপসেট এবং ওয়ানপ্লাসের মতোই ক্যামেরা সেটআপ।

বিশেষত্ব: ৭,৬০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের আরও বড় ব্যাটারি এবং ১০০ ওয়াট চার্জিং। তবে এর ডিসপ্লে ১৪৪ হার্জের এবং সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা ওয়ানপ্লাস থেকে কিছুটা আলাদা।
৩. মটোরোলা সিগনেচার (Motorola Signature): আভিজাত্যের ছোঁয়া
অন্যান্য ফোনের তুলনায় এটি অনেক বেশি পাতলা ও হালকা। প্রিমিয়াম ডিজাইনের সাথে এতে রয়েছে ১৬ জিবি র্যাম এবং ৫১২ জিবি স্টোরেজ।

বিশেষত্ব: ১৬৫ হার্জ ডিসপ্লে এবং আইপি৬৮/৬৯ রেটিং যা ফোনটিকে বেশ টেকসই করেছে। তবে ওয়ানপ্লাসের মতো ফাস্ট চার্জিং সুবিধা এখানে মিলবে না এবং এটি কিছুটা ব্যয়বহুল।
৪. রিয়েলমি নিও ৮ (Realme Neo 8): ফিচারের রাজা
এই ফোনটি ওয়ানপ্লাস ১১ ইউজারদের জন্য বড় ধরণের আপগ্রেড হতে পারে কারণ এতে রয়েছে ডেডিকেটেড পেরিস্কোপ লেন্স।

বিশেষত্ব: ৫০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ ক্যামেরা (৩.৫x অপটিক্যাল জুম), ৬৫০০ নিটস ব্রাইটনেস ডিসপ্লে এবং ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের দানবীয় ব্যাটারি। এর পেছনের আরজিবি এলইডি ডিজাইন ফোনটিকে একটি গেমিং ভাইব দেয়। তবে এর ৮০ ওয়াট চার্জিং ওয়ানপ্লাস ১১-এর চেয়ে কিছুটা ধীরগতির মনে হতে পারে।


















