সোশ্যাল মিডিয়ায় পণ্যের প্রচার বাড়াতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করছে।সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
অনুসন্ধানের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন কোম্পানি এখন এমনসব এআই কনটেন্ট ব্যবহার করছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে হতে পারে এগুলো প্রকৃত গ্রাহকের বাস্তব অভিজ্ঞতা। কিন্তু এসব বিজ্ঞাপনে দেখানো মানুষের কোনো অস্তিত্ব নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে বোঝার কোনো উপায় থাকে না পর্দায় দৃশ্যমান ব্যক্তিটি আসল নাকি নকল।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এআই ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি করা অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গোপনীয়তার চুক্তি বা নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যেন তারা এ কাজ নিয়ে বাইরে কোনো কথা বলতে না পারেন।
বিজ্ঞাপনে এআই ব্যবহারের বিষয়টি সাধারণ ক্রেতাদের জানানো বাধ্যতামূলক কিনা, তা নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো বৈশ্বিক নিয়ম নেই। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী আগস্ট থেকে ইইউর ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাক্ট’ বা এআই আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, যেকোনো ডিপফেক ছবি, অডিও কিংবা ভিডিওর গায়ে স্পষ্ট করে ‘এআই প্রযুক্তিতে তৈরি’ লেবেল বা স্টিকার যুক্ত করতে হবে। অবশ্য আইনটি যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। যুক্তরাজ্যের ভোক্তা অধিকার বিষয়ক সংস্থা হুইচ জানায়, বিজ্ঞাপনে বাস্তব মানুষের বদলে কৃত্রিম ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করা হলে তা ক্রেতাদের স্পষ্ট করে জানানো উচিত।
ডিপফেক শনাক্তকারী সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান রিয়েলিটি ডিফেন্ডার্স সম্প্রতি কিছু তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছে। সংস্থাটি জানায়, ইনস্টাগ্রামে ‘ওয়ান্স’ নামের একটি ফটো অ্যাপ নিজেদের প্রচারণায় সম্ভবত এআই ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করছে। অ্যাপটি মূলত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ওয়ান-টাইম বা ডিসপোজেবল ক্যামেরার মতো ছবি তুলতে সাহায্য করে। তবে এ বিষয়ে ওয়ান্স কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।
একইভাবে ঘরবাড়ির নকশা করার অ্যাপ ‘মাকেত’ বিজ্ঞাপনে একজন কৃত্রিম নারীকে ব্যবহার করছে। ভিডিওতে ওই নারী অ্যাপটির প্রশংসা করছিলেন। এ বিষয়ে মাকেত কর্তৃপক্ষ জানায়, বড় পরিসরে কোনো প্রচারণায় নামার আগে তারা পরীক্ষামূলকভাবে ও ছোট আকারে এআই ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার করছে।
এদিকে দুবাইভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘অ্যাশলে’ একটি রেস্তোরাঁয় পোশাক পরা এক নারীর ছবি পোস্ট করে। কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যায়, ছবিতে ওই নারীর হাতে একটি অতিরিক্ত আঙুল রয়েছে, যা সাধারণত এআই ছবির ক্ষেত্রে ঘটে। গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্র্যান্ডটি নিজেদের পেজ থেকে ছবিগুলো মুছে ফেলে। তবে অ্যাশলের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, তাদের সব পোশাক সম্পূর্ণ আসল ও হাতে তৈরি।




















