‘ব্যাটারি ফুললেও চেঞ্জ হবে, যেকোনো সমস্যায় রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি’—এমন মিষ্টি কথায় আশ্বস্ত করে ব্যাটারি বিক্রি করলেও সার্ভিস দেওয়ার সময় উল্টো সুর ধরছে মোবাইল সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠান ‘আই ফিক্স ফাস্ট’ (iFixFast)। মুখে এক কথা বলে ক্যাশ মেমোতে নিজেদের মতো টিক চিহ্ন দিয়ে গ্রাহকের অজান্তে প্রতারণার ফাঁদ পাতার চরম অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এই জালিয়াতি ও কাস্টমার হয়রানির শিকার হয়েছেন মিরাজ খালিদ নামে এক গ্রাহক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিরাজ খালিদ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের জন্য ‘আই ফিক্স ফাস্ট’ থেকে একটি নতুন ব্যাটারি ক্রয় করেন। কেনাকাটার সময় প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি মুখে স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দেন—ব্যাটারি ফুলে যাওয়া সহ যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাল্টে (Replace) দেওয়া হবে।
তবে ব্যাটারি কেনার পরপরই মিরাজ খালিদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া; তার বাবা মারা যান। পারিবারিক ও মানসিক শোকের কারণে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ব্যাটারিটি ফোনে ব্যবহার শুরু করেন তিনি। কিন্তু ব্যাটারি লাগানোর পর থেকেই ফোনটি অস্বাভাবিক হিট (অতিরিক্ত গরম) হতে থাকে এবং চার্জের ব্যাকআপ শূন্যে নেমে আসে।
পরবর্তীতে ক্যাশ মেমোটি ভালো করে খতিয়ে দেখতে গিয়েই ধরা পড়ে প্রতিষ্ঠানের চাতুরি। মিরাজ খালিদ দেখেন, বিক্রির সময় তাকে কিছু না জানিয়েই চতুরতার সঙ্গে মেমোর ‘ফোলা ব্যাটারি চেঞ্জ হবে না’ ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে মিরাজ খালিদ আই ফিক্স ফাস্ট-এর কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে অত্যন্ত বিনয়ী সুরে তাকে জানানো হয়—‘আপনি আউটলেটে চলে আসুন, ব্যাটারি পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।’
কাস্টমার কেয়ারের আশ্বাসে আশান্বিত হয়ে জুরাইন থেকে মোটা অঙ্কের গাড়ি ভাড়া দিয়ে ও শারীরিক কষ্ট সহ্য করে তাদের আউটলেটে যান মিরাজ। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই বদলে যায় কর্মচারীদের আচরণ। ফোনটি খোলার পর ব্যাটারিটি গ্রাহককে না দেখিয়েই টেকনিশিয়ানরা দাবি করেন, ব্যাটারি নাকি ‘হালকা ফুলে গেছে’, তাই নিয়ম অনুযায়ী এটি আর পরিবর্তন করা যাবে না।
ভুক্তভোগী মিরাজ খালিদ ব্যাটারিটি তাকে দেখানোর অনুরোধ করলেও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা তা না দেখিয়ে উল্টাপাল্টা অজুহাত তৈরি করে লুকোচুরি শুরু করে। পরবর্তীতে ফোন দিয়ে ডেকে এনে গ্রাহককে এভাবে হয়রানি ও প্রতারণা করার প্রতিবাদ জানালে সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধিরা তাদের নিজেদের বানানো নিয়ম বুঝিয়ে সার্ভিস দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মিরাজ খালিদ বলেন, “বাবার মৃত্যুর মতো শোকের সময় এমন প্রতারণা ও কাস্টমার হয়রানি কোনো স্বাভাবিক ব্যবসার লক্ষণ হতে পারে না। জুরাইন থেকে কষ্ট করে এত দূর ডেকে নিয়ে গিয়ে তারা যে ব্যবহারটা করল, তা স্পষ্ট জালিয়াতি। মুখে মিষ্টি কথা বলে মেমোতে অন্য নিয়ম বসিয়ে মানুষের কষ্টের টাকা মেরে খাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এদের মুখে বলা কোনো কথার ওপর সাধারণ মানুষের ভরসা করা উচিত নয়।”
ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাহককে মৌখিকভাবে এক রকম সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্যাশ মেমোতে অন্য নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রতারক সার্ভিস সেন্টারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিদপ্তরের (DNCRP) কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।





















