গরমের দিনে ঘরে এসি চালিয়েও যদি প্রত্যাশামতো ঠান্ডা না হয়, তাহলে অনেকেই ধরে নেন এসিতে যান্ত্রিক সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সব সময় এমনটা নয়। অনেক ক্ষেত্রে এসির রিমোটের ভুল সেটিংয়ের কারণেও ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না। বিশেষ করে মোড সেটিং ভুল থাকলে এসি চললেও ঠান্ডা বাতাস পাওয়া যায় না।
এসির রিমোটে সাধারণত কুল, ড্রাই, ফ্যান, অটো কিংবা হিটের মতো বিভিন্ন মোড থাকে। এর মধ্যে ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কুল মোড। রিমোটে এই মোড সাধারণত তুষারের মতো একটি চিহ্ন বা ‘কুল’ লেখা দিয়ে বোঝানো হয়। এসি ঠান্ডা না করলে প্রথমেই দেখে নিন এটি কুল মোডে রয়েছে কি না।
অনেক সময় ভুল করে রিমোটে ফ্যান মোড চালু হয়ে যায়। এই মোডে এসির ইনডোর ইউনিট শুধু বাতাস ঘোরায়, কিন্তু ঘর ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চালায় না। ফলে ফ্যানের মতো বাতাস পাওয়া গেলেও তাপমাত্রা খুব একটা কমে না। তাই ঠান্ডা চাইলে ফ্যান নয়, কুল মোড নির্বাচন করুন।
আবার ড্রাই মোড নিয়েও অনেকের বিভ্রান্তি থাকে। এই মোডের মূল কাজ ঘরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো। বর্ষাকালে বা বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এটি কাজে লাগতে পারে। তবে দ্রুত ঘর ঠান্ডা করার প্রয়োজন হলে সাধারণত কুল মোড বেশি উপযোগী।
রিমোটের টেম্পারেচার সেটিংস-ও গুরুত্বপূর্ণ। যদি ২৬-২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি সেট করা থাকে, তাহলে খুব কম তাপমাত্রার মতো ঠান্ডা অনুভূত নাও হতে পারে। দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য কেউ কেউ ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে নামিয়ে দেন। কিন্তু এতে সব সময় ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে এমন নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী ২৪-২৬ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা রাখা আরামদায়ক ও তুলনামূলকভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো ফ্যান স্পিড। খুব কম ফ্যান স্পিডে বাতাস ঘরে ছড়াতে সময় লাগতে পারে। তাই ঘর দ্রুত ঠান্ডা করতে শুরুতে মিডিয়াম বা হাই ফ্যান স্পিড ব্যবহার করা যেতে পারে। পরে ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে ফ্যানের গতি কমিয়ে দেওয়া যায়।
তবে রিমোটের সেটিং ঠিক থাকার পরও যদি এসি ঠান্ডা না করে, তাহলে অন্য কারণ খুঁজতে হবে। নোংরা এয়ার ফিল্টার, বাইরের ইউনিটে ময়লা জমা, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করা কিংবা রেফ্রিজারেন্টের সমস্যা এর কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে এসি খুলে পরীক্ষা না করে দক্ষ টেকনিশিয়ানের সাহায্য নেওয়াই নিরাপদ।
তাই এসি ঠান্ডা করছে না দেখলেই সার্ভিসিংয়ের জন্য ছুটে যাওয়ার আগে একবার রিমোট হাতে নিন। মোড, টেম্পারেচার এবং ফ্যান স্পিড- এই তিনটি সেটিং ঠিক আছে কি না দেখে নিন। অনেক সময় বড় সমস্যার মতো মনে হওয়া বিষয়টি আসলে রিমোটের একটি ভুল সেটিংয়েই আটকে থাকে।




















