নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ও ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে চীনা টেক জায়ান্ট আলিবাবা। এর পরই হংকং শেয়ারবাজারে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ বড় পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চীনের হাংঝুতে আলিবাবা ক্লাউডের বার্ষিক ‘অপসরা কনফারেন্স’-এ এসব নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়। সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের এআই চিপ ‘ঝেনউ ভি ৯০০’ পরিচয় করিয়ে দেয়। এটি গত মে মাসে বাজারে আনা আগের মডেল ‘ঝেনউ এম৮৯০’-এর চেয়ে তিন গুণ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম বলে দাবি আলিবাবার।
একই সঙ্গে আলিবাবা ক্লাউডের বৈশ্বিক ডেটা সেন্টার সক্ষমতা বাড়িয়ে ২০৩২ সালের মধ্যে ২০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। চিপ, ক্লাউড অবকাঠামো ও এআই মডেলকে একসূত্রে গেঁথে এগোতে চায় বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বজুড়ে এখন কম্পিউটিং পাওয়ার বা কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে। পশ্চিমা টেক জায়ান্টদের সঙ্গে তাল মেলাতেই আলিবাবা বিপুল বিনিয়োগ শুরু করেছে সম্প্রতি। পাশাপাশি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ২ গিগাওয়াটের এআই অবকাঠামো গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে মেটা কানাডায় প্রায় ৯০০ কোটি ডলার খরচে ১ গিগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ শুরু করেছে।
আলিবাবার নতুন ঝেনউ চিপটি ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে। বর্তমানে অটোমোবাইল, অর্থায়ন, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতের ৬৫০টিরও বেশি গ্রাহক কোম্পানি আলিবাবার আগের ঝেনউ চিপ ব্যবহার করছে।
সম্মেলনে আলিবাবা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী এডি উ জানান, এআই প্রযুক্তির বৃদ্ধির পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। তিনি বর্তমান এআই বিপ্লবকে বিদ্যুতায়নের শুরুর দিকের সঙ্গে তুলনা করেন।
তার মতে,”মেশিন ইন্টেলিজেন্সের যুগে এআই কোডিং হলো প্রথম লাইট বাল্বের মতো।”
এদিকে আরেক চীনা টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ে গত সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ প্রসেসর যুক্ত করার উপযোগী নতুন এআই অবকাঠামো উন্মোচন করেছিল। ফলে এআই প্রযুক্তি খাতে বেইজিংভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আরো তীব্র হচ্ছে।



















