নতুন স্মার্টফোন বাজারে এলেই পুরোনো ফোন বদলে নতুন মডেল কেনার আগ্রহ তৈরি হয় অনেকের মধ্যে। উন্নত ক্যামেরা, দ্রুত প্রসেসর, ভালো ডিসপ্লে কিংবা নতুন সফটওয়্যারের আকর্ষণ থাকলেও শুধু নতুন মডেল বাজারে এসেছে বলেই ফোন বদলানোর প্রয়োজন নেই।
একটি স্মার্টফোন কতদিন ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ভর করে এর হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার সাপোর্ট, ব্যাটারির অবস্থা, পারফরম্যান্স এবং ব্যবহারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।
সাধারণত কত বছর ফোন ব্যবহার করা যায়?
ভালো মানের একটি স্মার্টফোন নিয়মিত যত্ন নিলে প্রায় ৩ থেকে ৫ বছর ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নয়। ফোনের মান, ব্যবহার এবং নির্মাতার সফটওয়্যার সাপোর্টের ওপর সময়টি কম-বেশি হতে পারে।
ফ্ল্যাগশিপ ফোনে সাধারণত উন্নতমানের হার্ডওয়্যার ও তুলনামূলক দীর্ঘ সফটওয়্যার সাপোর্ট থাকায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব। অন্যদিকে বাজেট বা কিছু মিড-রেঞ্জ ফোনে কয়েক বছর পর পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তাই দুই বা তিন বছর পরপর ফোন বদলাতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। বরং ফোনের বর্তমান অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
ব্যাটারি দ্রুত শেষ হচ্ছে?
ফোন পুরোনো হওয়ার অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো ব্যাটারির সক্ষমতা কমে যাওয়া। আগে একবার চার্জে সারাদিন চললেও এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চার্জ শেষ হয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
এ ছাড়া ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া, চার্জ ধরে না রাখা বা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও ব্যাটারির অবনতির ইঙ্গিত হতে পারে।
তবে শুধু ব্যাটারি দুর্বল হয়েছে বলে নতুন ফোন কিনতে হবে এমন নয়। ফোনের মডেল ও সার্ভিস সুবিধা অনুযায়ী ব্যাটারি পরিবর্তন করে আরও কিছুদিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
সফটওয়্যার আপডেট বন্ধ হয়ে গেলে
ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্মাতা যখন কোনো ফোনে আর নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম বা নিরাপত্তা আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন নতুন ফিচার ও উন্নতি থেকে ব্যবহারকারী বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি পুরোনো সফটওয়্যারে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
তাই নতুন ফোন কেনার সময় শুধু ক্যামেরা বা প্রসেসর নয়, নির্মাতা কত বছর সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট দেবে, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।
ফোন ধীর হয়ে গেলে কী করবেন?
একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালু করলে ফোন আগের তুলনায় ধীর হয়ে যাওয়া, অ্যাপ খুলতে বেশি সময় লাগা, বারবার হ্যাং করা কিংবা স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়াও ফোনের বয়স বাড়ার লক্ষণ হতে পারে।
তবে এসব সমস্যা দেখা দিলেই নতুন ফোন কেনার প্রয়োজন নেই। প্রথমে—
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফাইল মুছে ফেলুন;
ফোনের স্টোরেজে পর্যাপ্ত জায়গা খালি করুন;
সফটওয়্যার ও অ্যাপগুলো আপডেট করুন;
প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যাকআপ নিয়ে ফোন রিসেট করে দেখুন।
এসবের পরও যদি পারফরম্যান্সের সমস্যা থেকে যায়, তখন নতুন ফোন কেনার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
মেরামতের খরচও হিসাব করুন
ফোনের ডিসপ্লে, ক্যামেরা, চার্জিং পোর্ট বা মাদারবোর্ডে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের খরচ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মেরামতের খরচ যদি ফোনটির বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি হয়, অথবা একই অর্থে ভালো একটি নতুন ফোন কেনা সম্ভব হয়, তাহলে পুরোনো ফোনটি মেরামতের বদলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
শুধু নতুন মডেল এলেই ফোন বদলানোর প্রয়োজন নেই
স্মার্টফোন বদলের ক্ষেত্রে দুই বছর, তিন বছর বা পাঁচ বছর—কোনোটিকেই বাধ্যতামূলক সময়সীমা বলা যায় না। ফোন ঠিকঠাক কাজ করলে শুধু নতুন মডেলের আকর্ষণে সেটি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
বরং ব্যাটারির অবস্থা, সফটওয়্যার সাপোর্ট, ফোনের গতি, স্টোরেজ, হার্ডওয়্যার সমস্যা এবং মেরামতের খরচ—এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। এতে প্রয়োজনের আগে নতুন ফোন কেনার অপ্রয়োজনীয় খরচও কমানো সম্ভব।




















