এসএমই ঋণের সুদের হার ও পরিশোধের হিসাব নিয়ে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের (IDLC Finance) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন সাভারের নারী উদ্যোক্তা নুসরাত জাহান জিতু। তাঁর অভিযোগ, ২০২৩ সালে ২০ লাখ টাকার ঋণ নেওয়ার সময় সুদের হার ৪ শতাংশ থাকবে বলে জানতেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি ঋণের হিসাব পর্যালোচনা করে জানতে পারেন, প্রথম বছর পর সুদের হার বেড়ে ১২.১০ শতাংশ হয়েছে। এতে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করে বন্ধ করতে গেলে তাঁকে অতিরিক্ত প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দিতে হতে পারে বলে দাবি তাঁর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নুসরাত জাহান জিতু এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি ২০১৬ সাল থেকে ‘Colors World’-এর মাধ্যমে বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ২০২৩ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে এসএমই ঋণ নেন তিনি।
নুসরাতের দাবি, ঋণ নেওয়ার সময় তিনি ৪ শতাংশ সুদের হার সম্পর্কে জানতেন। তবে প্রথম বছর শেষে সুদের হার পরিবর্তিত হয়ে ১২.১০ শতাংশ হয়েছে—এ বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণ বন্ধের হিসাব করতে গিয়ে বিষয়টি সামনে আসে। চূড়ান্ত হিসাবের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সুদের হার পরিবর্তনের তথ্য কীভাবে জানানো হয়েছিল?
নুসরাত জানান, বিষয়টি জানার পর আইডিএলসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা রিলেশনশিপ ম্যানেজার রুপন চ্যাটার্জি অর্ণবকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে জানান—এমনটাই দাবি উদ্যোক্তার।
পরে আইডিএলসির সাভার শাখায় যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে ঘটনাটি প্রায় দুই বছর আগের হওয়ায় চিঠির বিষয়টি তাঁর মনে নেই বলে জানিয়েছেন নুসরাত।
তাঁর প্রশ্ন, ঋণের সুদের হার পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয়ে শুধু চিঠি পাঠানোই কি যথেষ্ট? গ্রাহক চিঠিটি পেয়েছেন কি না, পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝেছেন কি না এবং নতুন শর্ত অনুযায়ী তাঁর মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ কত দাঁড়াবে—এসব নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
একই কিস্তি, কিন্তু বেড়েছে পরিশোধের সময়—অভিযোগ উদ্যোক্তার
নুসরাতের দাবি, গত দুই বছর ধরে তাঁর মাসিক কিস্তি ৫৯ হাজার ৪৮ টাকা করে কাটা হয়েছে। তাঁর ধারণা, মাসিক কিস্তির অঙ্ক অপরিবর্তিত রেখে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে ঋণের চুক্তি, পরিশোধসূচি ও হিসাবপত্র যাচাই ছাড়া সুদের হার পরিবর্তন এবং কিস্তির কাঠামো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
নিজের অভিজ্ঞতার তুলনা দিতে গিয়ে নুসরাত জানান, আইডিএলসির ঋণের পাশাপাশি তিনি সিটি ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে ১৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই ঋণ ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন এবং ভালো লেনদেনের কারণে ১ শতাংশ সুদও ফেরত পেয়েছেন।
১২ অক্টোবর অভিযোগ, এখনো চূড়ান্ত জবাবের অপেক্ষা
নুসরাত জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর তিনি আইডিএলসি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ অভিযোগটি পর্যালোচনা করছে এবং পরে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।
এই অপেক্ষা তাঁর জন্য মানসিক চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, একজন উদ্যোক্তাকে ব্যবসার প্রতিটি ব্যয় হিসাব করে চলতে হয়। সেখানে হঠাৎ অতিরিক্ত তিন লাখ টাকার বেশি পরিশোধের সম্ভাবনা তাঁর ব্যবসা পরিচালনায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নুসরাত আইডিএলসি ফাইন্যান্সের কাছে ঋণের সুদের হার পরিবর্তনের ভিত্তি, পরিশোধের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং অতিরিক্ত অর্থের দাবির বিষয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায্য ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত চান নারী উদ্যোক্তা
নিজের পোস্টে নুসরাত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাভারের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবুর সহযোগিতা চেয়েছেন। তাঁর প্রত্যাশা, ঋণের শর্ত, সুদের হার পরিবর্তন এবং গ্রাহককে তথ্য জানানোর প্রক্রিয়া যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
নুসরাত বলেছেন, তিনি বিশেষ কোনো সুবিধা চান না; বরং ঋণের হিসাবের স্বচ্ছতা, ন্যায্য পর্যালোচনা এবং দ্রুত একটি পরিষ্কার উত্তর চান। একই সঙ্গে অন্য উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার আগে সুদের হার, পরিবর্তনের শর্ত এবং মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।





















