অনলাইন ই-কমার্সনির্ভর সাশ্রয়ী ও উচ্চক্ষমতার স্মার্টফোনের বাজারে অবস্থান শক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রযুক্তি-বিষয়ক লিকস্টার ডিজিটাল চ্যাট স্টেশনের বরাতে নতুন ব্র্যান্ডটির সম্ভাব্য নাম বলা হচ্ছে ‘স্টারলাইট’ (Starlight), যার চীনা নাম ‘শিংমাং’ (Xingmang)। তবে হুয়াওয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্র্যান্ডের ঘোষণা দেয়নি।
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্র্যান্ডের ফোনগুলো মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করা হতে পারে। এতে সাশ্রয়ী দামে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার সরবরাহের মাধ্যমে শাওমির রেডমি (Redmi), ভিভোর আইকিউওও (iQOO) ও রিয়েলমির (Realme) মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পাবে হুয়াওয়ে।
কিরিন চিপ ও কুলিং ফ্যানের সম্ভাবনা
প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, স্টারলাইট ব্র্যান্ডের অধীনে একাধিক স্মার্টফোন তৈরির পরিকল্পনা থাকতে পারে। এর অন্তত একটি মডেলে গেমিং ও দীর্ঘ সময় উচ্চক্ষমতায় ব্যবহারের সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিল্ট-ইন অ্যাকটিভ কুলিং ফ্যান যুক্ত করা হতে পারে।
এ ছাড়া ফোনগুলোতে হুয়াওয়ের নিজস্ব কিরিন ৮-সিরিজ ও কিরিন ৯-সিরিজের চিপসেট ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তবে কোন মডেলে কোন প্রসেসর থাকবে, ফোনগুলোর অন্যান্য স্পেসিফিকেশন কী হবে কিংবা দাম কত নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুয়াওয়ের স্মার্টফোন পোর্টফোলিওতে নতুন সংযোজন?
বর্তমানে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন পোর্টফোলিওতে প্রিমিয়াম শ্রেণির মেট (Mate) ও পুরা (Pura) সিরিজের পাশাপাশি নোভা (Nova) ও এনজয় (Enjoy) সিরিজ রয়েছে। নতুন সাব-ব্র্যান্ড চালু হলে অনলাইনকেন্দ্রিক বাজেট ও পারফরম্যান্সনির্ভর বাজারে আলাদা পরিচয় তৈরির সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বাজারে রেডমি, রিয়েলমি ও আইকিউওওর মতো ব্র্যান্ড অনলাইন বিক্রি এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার দেওয়ার কৌশল অনুসরণ করে। স্টারলাইট চালু হলে একই ক্রেতাগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হুয়াওয়ে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে।
উল্লেখ্য, হুয়াওয়ে ২০২০ সালে অনারকে আলাদা করে বিক্রি করে দেয়। ফলে অনার এখন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। স্টারলাইট চালু হলে এটি অনারের সরাসরি বিকল্প হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হারমোনিওএসের ব্যবহারকারী বাড়ানোর সুযোগ
নতুন ব্র্যান্ডের ফোনে হুয়াওয়ের নিজস্ব হারমোনিওএস (HarmonyOS) ব্যবহৃত হলে অপারেটিং সিস্টেমটির ব্যবহারকারী বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে বেশি ফোন বাজারে এলে হারমোনিওএসের অ্যাপ ও সেবা ব্যবহারের পরিসরও বাড়তে পারে।
এতে অপারেটিং সিস্টেমটির জন্য অ্যাপ তৈরি করতে ডেভেলপারদের আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন ব্র্যান্ডের ফোনে হারমোনিওএসের কোন সংস্করণ ব্যবহার করা হবে, সেগুলো কোন বাজারে বিক্রি হবে এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা কতটা বাড়তে পারে—এসব বিষয়ে হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা আসেনি।
এখন পর্যন্ত স্টারলাইটের সম্ভাব্য নাম, হার্ডওয়্যার ও বাজার কৌশলসংক্রান্ত তথ্য মূলত ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ব্র্যান্ডটির নাম, পণ্যের বৈশিষ্ট্য ও বাজারে আসার সময়সূচিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।





















