টেলিকম বিশ্বে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়—ফাইভজি প্রযুক্তি। ফোরজির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি গতি, কম ল্যাটেন্সি এবং বিপুল পরিমাণ ডেটা আদান-প্রদানের ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রযুক্তি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফাইভজির প্রসারের ফলে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী মাসিক মোবাইল ডাটা ব্যবহারের পরিমাণ ৩০০ এক্সাবাইট (Exabyte) ছাড়িয়ে যাবে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
জার্মানিভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম স্ট্যাটিস্টার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
কেন বাড়বে এই বিপুল ডাটা ব্যবহার?
গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন ইন্টেলিজেন্স (জিএসএমএ)-এর জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৬০ কোটি মানুষ বা ৫৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ইন্টেলের ফাইভজি প্রযুক্তি বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার রবার্ট জে. টোপল বলেন, “ফাইভজি হবে স্মার্টফোন-পরবর্তী যুগের সূচনা।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইভজির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোই এর ব্যবহার বাড়ানোর পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করবে:
- দ্রুত গতি ও কম ল্যাটেন্সি: ফাইভজির দ্রুত গতি ব্যবহারকারীদের উচ্চ-মানের ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং বড় ফাইল ডাউনলোডে উৎসাহিত করবে।
- নতুন প্রযুক্তির প্রসার: আল্ট্রা-এইচডি ভিডিও, অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং ক্লাউড গেমিংয়ের মতো ডেটা-নির্ভর সেবাগুলো আরও জনপ্রিয় হবে।
- ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি): স্মার্ট হোম ডিভাইস, স্মার্ট গাড়ি এবং বিভিন্ন সেন্সর ২৪ ঘণ্টা ডেটা আদান-प्रदान করবে, যা মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়াবে।
বিশ্বজুড়ে ফাইভজির বিস্তার: অঞ্চলভেদে ভিন্ন চিত্র
স্ট্যাটিস্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মোবাইল সংযোগ ফাইভজি প্রযুক্তির আওতায় ছিল, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই বিস্তার অঞ্চলভেদে ভিন্ন হবে। অবকাঠামোর অভাব, উচ্চ খরচ এবং ফাইভজি-সক্ষম ফোনের স্বল্পতার কারণে অনেক উন্নয়নশীল দেশে এর প্রসার ধীরগতির হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ ফাইভজি ব্যবহার করবে, কিন্তু সাব-সাহারান আফ্রিকার মতো অঞ্চলে এই হার ২০ শতাংশের নিচে থাকতে পারে।
এরিকসনের মবিলিটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৩০০-এর বেশি কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার (সিএসপি) ফাইভজি সেবা দিচ্ছে এবং ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বের মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর ৬০ শতাংশই ফাইভজি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে।
গতির লড়াইয়ে শীর্ষে দক্ষিণ কোরিয়া
ফাইভজি সেবার মান মূলত গড় ডাউনলোড গতির ওপর নির্ভর করে। এই দৌড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৫ সালে দেশটিতে গড় ডাউনলোড গতি ছিল ৪৩৫ এমবিপিএস, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা বুলগেরিয়ার (১৯৯ এমবিপিএস) চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফাইভজি শুধু টেলিকম খাতেই নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ভিত্তিক বিভিন্ন শিল্পে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।





















