অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি ‘চুরির’ অভিযোগে মামলা করেছে ডিজিটাল ওয়ালেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফিনটিভ। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক কোম্পানিটির অভিযোগ, অ্যাপল তাদের গোপন তথ্য ব্যবহার করে অ্যাপল পে চালু করেছে এবং ব্যাংক ও পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিলে কোটি কোটি ডলার আয়ের পথ তৈরি করেছে।
ফিনটিভের করা মামলায় অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে অর্থ জালিয়াতি ও ব্যবসায়িক গোপন তথ্য ‘চুরির’ অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অ্যাপল পের মূল কিছু ফিচার ফিনটিভের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ ও ২০১২ সালে অ্যাপল কোরফায়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়, যা পরে ২০১৪ সালে ফিনটিভ অধিগ্রহণ করে। বৈঠকের সময় অ্যাপল কোরফায়ারের মোবাইল ওয়ালেট প্রযুক্তি লাইসেন্সের জন্য আগ্রহ দেখায় ও গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য পাওয়ার বিনিময়ে গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। যদিও প্রযুক্তি জায়ান্টটি শেষ পর্যন্ত কোরফায়ারের কাছ থেকে এ লাইসেন্স নেয়নি।
ফিনটিভের অভিযোগ, অ্যাপল সেই গোপন তথ্য ‘চুরি’ করে এবং পরে ২০১৪ সালে অ্যাপল পে চালুর আগে কোরফায়ারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে, বিশ্বের কোটি কোটি আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাপল ওয়াচ ও ম্যাকবুকে অ্যাপল সচেতনভাবে এ ‘চুরি’ করা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
মামলার তথ্যানুযায়ী, ফিনটিভের মোবাইল ওয়ালেট প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক গোপন তথ্য ছাড়া অ্যাপল পে থেকে বিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো।
মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফিনটিভের প্রধান আইনজীবী একে প্রযুক্তি ‘চুরির’ এক ‘বিরাট উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, করপোরেট দুর্নীতির এমন দৃষ্টান্ত তিনি ৪৫ বছরের আইনি জীবনে খুব কমই দেখেছেন।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, অ্যাপল এর আগে স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাসিমো করপোরেশন ও ভ্যালেনসেল থেকে প্রযুক্তি আত্মসাৎ করেছে, যা অ্যাপল ওয়াচে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ফিচারে ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য, অ্যাপলের বিরুদ্ধে এটি ফিনটিভের প্রথম মামলা নয়। ২০১৮ সালে পেটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। একই ধরনের মামলা পেপ্যালের বিরুদ্ধেও করেছে ফিনটিভ।






















