বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)-এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রযুক্তি বিশ্বে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘নান্ডা ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, কর্পোরেট পর্যায়ে শুরু করা ৯৫ শতাংশ এআই (AI) পাইলট প্রকল্পই প্রাথমিক পরীক্ষার গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এই বিপুল পরিমাণ ব্যর্থতার হার প্রযুক্তি খাতে একটি সম্ভাব্য ‘এআই বিনিয়োগ বুদবুদ’ (AI Investment Bubble) নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে, যা ২০০০ সালের ডট-কম ধ্বসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল, অ্যামাজন এবং মেটার মতো টেক জায়ান্টদের কল্যাণে এআই খাতে বিনিয়োগ এবং কোম্পানির মূল্যায়ন আকাশচুম্বী হলেও, এমআইটি’র প্রতিবেদন বলছে—এই ব্যর্থতার মূল কারণ এআই মডেলের দুর্বলতা নয়। বরং, মূল সমস্যা হলো:
অ্যাপ্লিকেশন ইন্টিগ্রেশন: বিদ্যমান ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার সাথে নতুন এআই সিস্টেমকে একীভূত করার জটিলতা।
অপর্যাপ্ত বাজেট: ভুলভাবে বাজেট বরাদ্দ করা, যেখানে মূল অবকাঠামো এবং কর্মী প্রশিক্ষণের চেয়ে সাময়িক প্রচারণামূলক প্রকল্পে বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়।
এই গবেষণার ফলাফল এমন এক সময়ে এলো, যখন ওপেনএআই (OpenAI)-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং প্রখ্যাত এআই গবেষক গ্যারি মার্কাসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একটি সম্ভাব্য এআই বুদবুদের বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন।
এই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায় যখন ওপেনএআই-এর বহু প্রতীক্ষিত GPT-5 মডেলটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয় এবং কোম্পানিকে পুরনো GPT-4o মডেলে ফিরে আসতে হয়। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রযুক্তি শেয়ার বাজারে মাত্র ৪ দিনের মধ্যে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের দরপতন ঘটে, যা বিনিয়োগকারীদের গভীর উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
বাজার গবেষণা সংস্থা গার্টনারও এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জেনারেটিভ এআই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে, যা প্রমাণ করে যে এআই খাতে একটি বড় পুনর্গঠন আসন্ন।
গবেষণাটি বলছে, এআই মডেলগুলো প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ বা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতি করলেও, সেগুলোকে জটিল কর্পোরেট পরিবেশে একীভূত করা অত্যন্ত কঠিন। বেশিরভাগ সংস্থা প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে এমন সব প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে, যার জন্য তাদের কারিগরি প্রস্তুতি বা ব্যবসায়িক প্রয়োগযোগ্যতা নেই।
এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের এখন এআই প্রকল্প মূল্যায়নে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। অন্যদিকে, সংস্থাগুলোকে উচ্চাভিলাষী প্রচারণার পরিবর্তে বাস্তবসম্মত কৌশল, অর্জনযোগ্য লক্ষ্য এবং সঠিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
সম্ভবত, এআই খাত এখন একটি ‘পুনঃনিরীক্ষণ’ পর্বে প্রবেশ করবে, যেখানে ধীরগতিতে এবং বাস্তবসম্মতভাবে উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এআই বিকাশের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





















