চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিক্রি বেড়েছে বার্ষিক হিসাবে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। এ সময় সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি ছাড়িয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। অর্থের এ সংখ্যা আগের মাসের তুলনায়ও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (এসআইএ) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওয়ার্ল্ড সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো ও ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগের ফলে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় রেকর্ড ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে খাতটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশে।
প্রযুক্তি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকইনসাইটসের তথ্যানুযায়ী, আগামী এক দশকে বাজারটির আকার বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। এ প্রবৃদ্ধির মূল প্রভাবক হবে এআই, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন এবং পুরনো ফোন ও ডিভাইস বদলে নতুন কেনার প্রবণতা।
এসআইএর প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন নিউফার বলেন, ‘জুলাইয়ে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি শক্তিশালী ছিল, এটি জুনের বিক্রির তুলনায়ও ছিল বেশি এবং গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে।’
তিনি জানান, এ প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখছে এশিয়া প্যাসিফিক ও যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলের শক্তিশালী চাহিদা।
বিশ্লেষকদের মতে, ডাটা সেন্টার চিপই সেমিকন্ডাক্টর বাজারে এখনো সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধির উৎস। এআই অবকাঠামো, দ্রুততর কম্পিউটিং ও ডাটা সেন্টার নেটওয়ার্কিংয়ের চাহিদা রাজস্ব আয় বাড়াচ্ছে।
এসআইয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক চিপ শিল্প অতিরিক্ত উৎপাদন ও অর্থনৈতিক মন্দার মতো বড় জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিল। ফলে তখন শিল্পের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে দুই বছর পর সাম্প্রতিক চিপের চাহিদা ও বিক্রি আবার শক্তিশালী হচ্ছে।




















