প্রায় ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মামলা দায়েরের মাত্র দুই দিনের মাথায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পরপরই বুধবার তাকে এনবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) পদ থেকে সরিয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ এবং মূল্য সংযোজন কর আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু এর একদিনের মাথায় তাকে সেখান থেকেও সরিয়ে ওএসডি করা হলো।
মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে:
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বেলাল হোসাইন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৪ কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৭১৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার মোট ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৯ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেলেও, তিনি সম্পদ বিবরণীতে মাত্র ৮ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ১৬৬ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন।
এছাড়াও, এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘দুর্নীতির মাধ্যমে’ মোট ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালী জেলায় জমি, প্লট, ফ্ল্যাট ও শেয়ার কিনে এই অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। তার এই কর্মকাণ্ড দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
যেভাবে শুরু হয় অনুসন্ধান:
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০২২ সালের ১ জুন বেলাল হোসাইনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হয়। পরে সে বছরের ২৬ জুলাই তিনি দুদকে তার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। দাখিল করা বিবরণী যাচাই-বাছাই করতে গিয়েই বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৮ থেকে ২০২৩ করবর্ষ পর্যন্ত তার আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, তার বৈধ আয় ছিল প্রায় ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। দুদকের হিসাবে গ্রহণযোগ্য দায়-দেনা বাদ দেওয়ার পর তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার বৈধ আয়ের উৎসের সাথে অর্জিত সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি, যা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে আরও শক্তিশালী করেছে।





















