আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) ঢাকাসহ সারা দেশে বৈধ মোবাইল ফোনের সব মার্কেট ও শোরুম খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীরা। অবৈধ ও চোরাই ফোন ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা।
আজ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন মোবাইল মার্কেট ও ব্র্যান্ড শপ মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে যারা বৈধভাবে ব্যবসা করছেন, তাদের দোকান বা শোরুম বন্ধ রাখার কোনো কারণ নেই।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সরকার ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে অবৈধ, চোরাই ও রিফারবিশড ফোন নেটওয়ার্কে সচল হবে না। ২০ হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাজার বাঁচাতে এবং সরকারকে চাপে ফেলতে ‘গ্রে-মার্কেট’ বা চোরাই ফোন ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট ৩০ নভেম্বর সারা দেশে মোবাইল মার্কেট বন্ধের ডাক দেয়।
বৈধ ব্যবসায়ীদের অবস্থান এই ধর্মঘটের ডাকের বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ডিলাররা।
বসুন্ধরা ও যমুনা খোলা থাকবে: রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, পুলিশ প্লাজাসহ অভিজাত মার্কেটগুলোর ব্র্যান্ড শপ ও বৈধ দোকানগুলো যথারীতি খোলা থাকবে।
ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা: বৈধ ব্যবসায়ীরা বলছেন, “আমরা সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে বৈধ পথে পণ্য আনি বা বিক্রি করি। চোর বা মাফিয়া সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা কেন দোকান বন্ধ রাখব? এনইআইআর আমাদের ব্যবসার জন্যই ভালো।”
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের মতে, এনইআইআর চালু হলে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা ফিরবে। এতদিন অবৈধ ফোনের দাপটে বৈধ ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা ছিলেন। এখন সরকার যখন সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন অবৈধ সিন্ডিকেট ধর্মঘটের নাটক সাজিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
আগামীকাল যাতে কেউ জোর করে বৈধ দোকান বন্ধ করতে না পারে, সেজন্য মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও জানিয়েছে, কেউ জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে বা জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















