জাপানের বাজারে নতুন নকশার ‘এলগ্র্যান্ড’ মিনিভ্যান উন্মোচন করেছে নিশান মোটর কোম্পানি। মিনিভ্যান সেগমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছে প্রতিদ্বন্দ্বী টয়োটা মোটর করপোরেশন।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর এলগ্র্যান্ড মডেলটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নিশান। নতুন মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে নিশানের তৃতীয় প্রজন্মের ‘ই-পাওয়ার’ হাইব্রিড সিস্টেম। এ প্রযুক্তিতে গাড়িটির ইঞ্জিন মূলত একটি জেনারেটর হিসেবে কাজ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
গাড়িটির নকশা করা হয়েছে জাপানি সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। এর সামনের গ্রিলটিতে ঐতিহ্যবাহী জ্যামিতিক কাঠের কারুকাজ ‘কুমিকো’র আদলে একটি গ্রিড প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে।
জাপানের বাজারে নতুন এলগ্র্যান্ড মিনিভ্যানের প্রাথমিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯ লাখ ইয়েন।
নতুন মডেলটির জ্বালানি দক্ষতা আগের চেয়ে ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নিশান। গাড়িটি প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। ২০২৭ অর্থবছরের মধ্যে এলগ্র্যান্ড মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত (এআই) পরবর্তী প্রজন্মের ড্রাইভিং প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
ইয়োকোহামায় গাড়িটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে নিশান জাপানের মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের করপোরেট এক্সিকিউটিভ আকিরা সুগিমোতো বলেন, ‘নতুন এলগ্র্যান্ড তৈরির সময় আমাদের লক্ষ্য ছিল কেবল মানুষ বা মালামাল পরিবহন নয়, বরং ভ্রমণের সময়টুকুকে আরো আরামদায়ক ও বিশেষ করে তোলা। রেললাইনের ওপর দিয়ে গাড়ি চলার মতো মসৃণ অভিজ্ঞতা এ প্রিমিয়াম মিনিভ্যানের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।’
নিশানের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় জাপানের বাজার অন্যতম প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে। গত মে মাসের শেষ দিক থেকে গাড়িটির অগ্রিম বুকিং নেয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে নিশান ছয় হাজারের বেশি অগ্রিম ক্রয়াদেশ পেয়েছে।
জাপানের বড় মিনিভ্যানের বাজারে বর্তমানে টয়োটার একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। ২০২৫ সালে টয়োটা ‘অ্যালফার্ড’ ও ‘ভেলফায়ার’ মডেলের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউনিট গাড়ি বিক্রি করে। অন্যদিকে সে বছর নিশানের এলগ্র্যান্ড বিক্রি হয় মাত্র ১ হাজার ৪২৬টি। নতুন মডেলের হাত ধরে বাজারে হারানো অবস্থান ফিরে পাবে বলে আশা করছে নিশান।



















