আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে থাকছে না শূন্য রিটার্নের বিধান। আসন্ন বাজেটে এই বিধানে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যদিও ন্যূনতম কর কত হবে, তা এখনো নির্ধারণ করেনি সংস্থাটি। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এনবিআর কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরের বাজেটে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের কর কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যালের কর কমতে পারে। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর বসানোর চিন্তা করছে এনবিআর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছর থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করে এনবিআর। আর অনলাইনে রিটার্ন বাধ্যতামূলক করায় প্রায় ৫০ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের রিটার্ন জমার মেয়াদ দফায় দফায় বাড়ানোর পরও ৪১ লাখের বেশি করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অথচ দেশে টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। যদিও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানার বিধানও রয়েছে।
তবুও দেশে টিআইএনধারী এবং রিটার্ন জমায় বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ ই-টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এরই মধ্যে যেসব করদাতা ঠিকমতো রিটার্ন দেন না বা রিটার্নে ঝামেলা রয়েছে, তাদের কর ফাইল রেন্ডম অডিট করার ব্যবস্থা নিচ্ছে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে ঝুঁকি নির্ধারণ করে অডিটের জন্য নির্বাচন করা হচ্ছে। এর আগে এনবিআরের এক পরিসংখ্যানে শূন্য রিটার্নের আধিক্য দেখা যায়। পরে খোদ এনবিআর চেয়ারম্যান শূন্য রিটার্ন নিয়ে কথা বলেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে এনবিআর। আগামী অর্থবছরের বাজেটে শূন্য রিটার্ন জমার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম করারোপের প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত ন্যূনতম কত টাকা হবে, তা নির্ধারণ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলেও নিশ্চিত করেছে এনবিআর সূত্র।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের আয়কর বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ন্যূনতম করারোপ করার পরিকল্পনা রয়েছে এনবিআরের।
তবে ন্যূনতম কর কত হতে পারে, তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বলা যাবে। আগামী অর্থবছর থেকে শূন্য রিটার্নের বিধানটি নাও থাকতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সুখবর পেতে পারেন ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল ব্যবহারকারীরা। সরকার এই পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। এরই মধ্যে ইলেক্ট্রিক স্কুলবাস আমদানিতে শুল্ক-কর মওকুফ করেছে। শুধু পরিবেশবান্ধব যানবাহন আমদানি নয়, রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও ছাড় আসছে আগামী বাজেটে। রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে আমদানি পর্যায়ে মিলতে পারে শুল্ক সুবিধা। তবে এসব নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমতি সাপেক্ষে। যদিও প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে জোর দিচ্ছেন। আগামী বাজেটে ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যালে সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও অগ্রিম আয়করের আওতায় আসছে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। বর্তমানে শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, জিপ, বাস, ট্রাক ও পিকআপের মতো যানবাহনের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার ক্ষেত্রে বছরে ৫ হাজার টাকা, আর পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।



















