যেকোনো ব্যাংকের কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ করার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাময়িকভাবে প্রথমবার কোনো ব্যাংক কার্ড বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো এমএফএস অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করার সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি ‘টোকেন লেনদেন’ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে একাধিক এমএফএস অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রথমবার কোনো কার্ড এমএফএস ব্যক্তিগত হিসাবের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার একটি টোকেন লেনদেন করতে হবে। ওই লেনদেন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সংশ্লিষ্ট কার্ডটি পুরোপুরি সক্রিয় হবে এবং এরপর গ্রাহক স্বাভাবিকভাবে যেকোনো পরিমাণ অর্থ ‘অ্যাড মানি’ করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্ডধারী ও এমএফএস হিসাবধারীর নাম একই হলে এই টোকেন লেনদেন ছাড়াই সরাসরি কার্ড সংযুক্ত করে নিয়মিত লেনদেন করা যাবে। অর্থাৎ একই ব্যক্তির নামে থাকা ব্যাংক কার্ড ও এমএফএস হিসাবের ক্ষেত্রে টাকা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও নির্দেশ দিয়েছে, কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ লেনদেনকে আর মার্চেন্ট পেমেন্ট হিসেবে দেখানো যাবে না। এটিকে এখন থেকে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের সময় বেনিফিশিয়ারি ওয়ালেট নম্বর যেন কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকের কাছে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে কার্যকর করতে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে ১ আগস্ট থেকে কার্ডের মাধ্যমে এমএফএস অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, এমএফএস ব্যক্তিক হিসাবের অন্যান্য লেনদেনের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ জারি করা নির্দেশনাবলী বহাল থাকবে।





















