হাত থেকে আনলক অবস্থায় ই-সিমসহ স্মার্টফোন ছিনতাই হওয়ার পর সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল মোবাইল অ্যাপ ‘সিটিটাচ’ এবং ‘ক্যাশ বাই কোড’ (Cash by Code) সুবিধার অপব্যবহার করে এক নারী গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে একটি চোর চক্র। ঘটনাটি ঘটার পরপরই গ্রাহক কল সেন্টারে যোগাযোগ করে সার্ভিস ব্লক করলেও পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের গড়িমসি, তথ্য গোপনের চেষ্টা এবং সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সুমাইয়া মিম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গাড়ি থেকে তার ব্যবহৃত আইফোনটি ছিনতাই হয়। হ্যান্ডসেটে ই-সিম সচল থাকায় চোর চক্র সিমটি খুলে ফেলে দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তবে ফোনটি আনলকড অবস্থায় থাকায় চক্রটি দ্রুত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন ও ইমেইল নোটিফিকেশনের সুযোগ নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রাহকের ইমেইলে টাকা কেটে নেওয়ার নোটিফিকেশন আসলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে কল দিয়ে সিটিটাচ অ্যাপ ও ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্লক করার অনুরোধ জানান।
তদন্তে জানা যায়, কার্ড বা ডেবিট পিন নম্বর ছাড়াই বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সুবিধা ‘ক্যাশ বাই কোড’-এর মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে উক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু গ্রাহকের প্রশ্ন—লগইন করার জন্য পিন ও ফেস আইডি (Face ID) সুরক্ষিত সিটিটাচ অ্যাপে চোর কীভাবে প্রবেশ করল এবং কার্ড পিন ব্যতি রেখে টাকা বের করা কীভাবে সম্ভব হলো?
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর গত ছয় মাস ধরে গ্রাহকের সিটিটাচ অ্যাকাউন্ট লক করে রাখা হয়েছে এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার ইমেইল, সরাসরি ব্রাঞ্চে যোগাযোগ এবং সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ চাওয়া হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে পোস্ট দিলে তোলপাড় শুরু হয় এবং ব্যাংকটির বিভিন্ন বিভাগ থেকে কর্মকর্তা ও বনানী শাখার ব্যবস্থাপক গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে গ্রাহকের অভিযোগ—সমস্যা সমাধানের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অভিযোগের পোস্টটি মুছে ফেলার জন্যই বেশি চাপ সৃষ্টি করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রাহকের দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা ও ফরমাল ইমেইলের শর্ত মেনে নেওয়া সত্ত্বেও সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৫ দিনেও কোনো জবাব বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল জালিয়াতি ও সিকিউরিটি ল্যাপসের ঘটনা। গ্রাহকের সম্মতি বা সিকিউরিটি মেকানিজম লঙ্ঘন করে কীভাবে লেনদেন সম্পন্ন হলো—তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া ব্যাংকের আইনি বাধ্যবাধকতা। কোনো ব্যাংকিং অ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি কোনো আনলকড ডিভাইসের ওটিপি দিয়ে অতি সহজে বাইপাস করা যায়, তবে তা পুরো আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
এদিকে, টানা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে সিটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অবহেলা ও গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।




















