নিজেদের ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তরসহ নিয়মিত লেনদেনের পর বিকাশের NPSB ও bKash to Bank সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক গ্রাহক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যে তারা দাবি করেছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বৈধ লেনদেনকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব সেবা স্থগিত করা হয়েছে।
আলতাফ আব্দুর রউফ নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর পর তাঁর bKash to Bank ও NPSB সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, নিজের বৈধ ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোও যদি ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে স্বাভাবিক লেনদেন কোনটি?
তিনি বলেন, কোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে বিকাশ যাচাই করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথি চাইতে পারে। তবে ব্যাখ্যা বা দ্রুত যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন এস টি সিহাব। তাঁর দাবি, প্রতি মাসে বিকাশে বেতন আসার পর সেই অর্থ ব্যাংক হিসাবে নিতে NPSB ব্যবহার করতেন। তবে গত দুই মাস ধরে তাঁর NPSB সুবিধা বন্ধ রয়েছে।
আল রেজা মো. আমির দাবি করেন, নিজের ব্যাংক হিসাবে বৈধভাবে NPSB করার পর বিকাশ তাঁর NPSB, bKash to Bank এবং পেমেন্ট সুবিধা স্থগিত করেছে। পরে অফিসে যোগাযোগ করলে নির্দিষ্ট একটি ফরমে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং সেবা চালু করতে আরও পাঁচ কর্মদিবস সময় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
অন্যদিকে তানভীর আহমেদ অভিযোগ করেন, NPSB সুবিধা বন্ধ থাকলে বিকাশের bKash to Bank সেবা ব্যবহারে তুলনামূলক বেশি খরচ পড়ে। তাঁর দাবি, NPSB-এর মাধ্যমে MFS থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে প্রায় ৮ টাকা খরচ হলেও bKash to Bank-এ তা ১২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে।
আদনান তাকিও NPSB ও bKash to Bank-এর চার্জ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যাংক থেকে ব্যাংকে NPSB লেনদেনের পাশাপাশি MFS থেকে ব্যাংক বা অন্য MFS হিসাবে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে চার্জের পার্থক্য গ্রাহকদের জন্য অসুবিধা তৈরি করছে।
এদিকে তারেক হোসাইন নামের একজন গ্রাহক দাবি করেন, NPSB-এর মাধ্যমে ১৮ হাজার টাকা লেনদেনের পর তাঁর NPSB ও ব্যাংক ট্রান্সফার সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে নগদ ও রকেটের মাধ্যমে Bangla QR ও NPSB ব্যবহার করলেও একই ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।
গ্রাহকদের এসব অভিযোগের মধ্যে মূল প্রশ্ন উঠেছে—নিরাপত্তা ও সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোনো গ্রাহকের লেনদেন সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলে, সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানানো এবং দ্রুত যাচাইয়ের সুযোগ কতটা সহজ রাখা হচ্ছে।





















