ই-অরেঞ্জ থেকে ফ্লাইট এক্সপার্ট—নাম বদলায়, কিন্তু প্রতারণার চিত্রনাট্য একই থাকে। লোভনীয় অফার, অগ্রিম পেমেন্ট, তারপর গ্রাহকের মাথায় হাত। ফ্লাইট এক্সপার্টের কয়েকশ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, বাংলাদেশে ‘স্টার্টআপ’ শব্দটি অনেকের কাছে দ্রুত ধনী হওয়ার এবং টাকা গুছিয়ে বিদেশে পালানোর একটি লাইসেন্স মাত্র।
আমি অবাক হই না। যে দেশে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ পেয়ে উদ্যোক্তা সবার আগে নিজের জন্য ২ কোটি টাকার গাড়ি কেনেন, সে দেশে গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালানো তো স্বাভাবিক ঘটনা। এই ‘ফাউন্ডার’দের কাছে কোম্পানির উন্নতি বা গ্রাহকসেবার চেয়ে ব্যক্তিগত বিলাসিতাই মুখ্য। কিছুদিন পর যখন লোকসানের কারণে নতুন বিনিয়োগ আসে না, তখন অসহায় হয়ে পড়েন বিল না পাওয়া ভেন্ডর আর বেতন না পেয়ে চাকরি হারানো কর্মীরা। আর গ্রাহকরা? তাদের সঞ্চয় পরিণত হয় দীর্ঘশ্বাসে।
ফ্লাইট এক্সপার্টের ঘটনা আমাদের ওটিএ ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় শিক্ষা। কিন্তু এই শিক্ষা থেকে আমরা কি কিছু শিখব? আমার সন্দেহ আছে। কারণ সমস্যাটা শুধু এক বা দুটি প্রতিষ্ঠানে নয়, সমস্যা আমাদের মানসিকতায় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চরম উদাসীনতায়।
আর কতগুলো ফ্লাইট এক্সপার্টের জন্ম হলে আমরা বুঝব যে, অগ্রিম টাকার এই ব্যবসায়িক মডেলটি গ্রাহকদের জন্য একটি ফাঁদ? কেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এমন লোভনীয় অফার দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুরুতেই নজরদারির আওতায় আনে না?
এখনই সময়, সব ওটিএ প্রতিষ্ঠানকে কঠোর অডিটের আওতায় আনা হোক। তাদের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায়, আজ ফ্লাইট এক্সপার্ট গেছে, কাল শেয়ারট্রিপ বা গো যায়ানের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও একই পথে হাঁটবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? গ্রাহকের বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে, তা জোড়া লাগাতে কয়েক যুগ লেগে যায়। আমরা কি সেই পথেই হাঁটছি?






















