দিন দিন আধুনিক হচ্ছে পরীক্ষার নকলের পদ্ধতি! স্মার্ট ডিভাইস ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
পরীক্ষায় ‘স্মার্ট’ প্রযুক্তির ক্রমাগত ব্যবহার নকল ধরা আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইংল্যান্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।
ইংল্যান্ডের পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকোয়াল’-এর প্রধান নিয়ন্ত্রক ইয়ান বাউখাম বলেছেন, পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত পরিদর্শকদের এখন বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা স্মার্ট চশমা, কানের ভেতর লুকিয়ে রাখা ছোট ইয়ারপিস ও স্ক্রিনওয়ালা কলমের মতো গোপনে ব্যবহার করা যায় এমন প্রযুক্তি শনাক্ত করতে পারেন।
অফকোয়ালের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সাল থেকে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন পরীক্ষাগুলোতে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহারই ছিল পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনের সবচেয়ে সাধারণ মাধ্যম। গেল বছর মোট নকলের ঘটনার ৪৪ শতাংশই ছিল এ ধরনের ডিভাইসের ব্যবহার।
এ গ্রীষ্মে ১০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী ‘জিসিএসই’ ও এ-লেভেল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
‘বিবিসি রেডিও ৪’-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় ইয়ান বলেছেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করতে শিক্ষার্থীরা দিন দিন আরও উন্নত ও জটিল ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে স্কুলগুলো থেকে খবর আসছে।
“দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুলগুলোতে গেলে আমি সরাসরি তাদের কাছ থেকে এমন অনেক ঘটনার কথা শুনতে পাই, যেমন লুকিয়ে রাখা যায় এমন ইয়ারপিস, স্মার্ট চশমা, যা গোপনে চশমার ভেতরের দিকে লেখা দেখায় এবং কেবল ব্যবহারকারীই তা দেখতে পায়, বলপয়েন্ট কলম, যেগুলোর ভেতরে ছোট অদৃশ্য ভিডিও স্ক্রিন বসানো থাকে।”
গেল গ্রীষ্মের অফকোয়ালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে–
● মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইস সংক্রান্ত অসদুপায়ের ঘটনা ঘটেছে দুই হাজার দুইশো ২৫টি।
● পরীক্ষায় জালিয়াতির কারণে ৫৪৫ জন শিক্ষার্থীর আংশিক বা পুরো সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে।
● ১ হাজার ২৪০টি ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর কেটে নেওয়া হয়েছে।
ইয়ান সতর্ক করে বলেছেন, “সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা তাদের পুরো এ-লেভেলের গ্রেডই হারাতে পারে, যা তাদের পুরো ভবিষ্যৎ বদলে দিতে এমনকি ধ্বংস করতে পারে।
“এ ধরনের কিছু ডিভাইস ইন্টারনেটে প্রকাশ্যেই বাজারজাত করা হচ্ছে, যেখানে এগুলোকে সরাসরি পরীক্ষায় নকল করার সহায়ক উপাদান হিসেবে প্রচার হচ্ছে।”
তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, “একইভাবে ‘সিংহভাগ’ শিক্ষার্থীই কখনও নকল করার কথা স্বপ্নেও ভাবে না। তবে এখানে ছোট একটি গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সবসময়ই নিয়মনীতি ভাঙতে ও নকল করতে তৎপর থাকে।”
ইয়ান আরও বলেন, পরীক্ষার হলে সন্দেহজনক ডিভাইস ও পরীক্ষার্থীদের অস্বাভাবিক আচরণ কীভাবে শনাক্ত করা যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা বোর্ড এখন পরিদর্শক ও পরীক্ষা কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।
অফকোয়ালের এ প্রধান পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেছেন, পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়ার সম্ভাবনা বেশি এবং এর ফলে তাদের ‘সত্যিই কঠোর শাস্তির’ মুখে পড়তে হবে।



















