চলতি বছরের শুরুতে মোবাইল ফোনের দাম কমাতে সরকারের নেওয়া বড় পদক্ষেপের সুফল এখন শেষ হতে চলেছে। গত ১৩ জানুয়ারি (২০২৬) এক প্রজ্ঞাপনে দেশের বাজারে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দাম কমাতে আমদানি শুল্ক এক লাফে ৬০ শতাংশ কমিয়েছিল সরকার। তবে এই বিশেষ শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে নতুন অর্থবছর তথা ১ জুলাই থেকে বাজারে প্রতিটি আমদানি করা স্মার্টফোনের দাম আগের চেয়ে অন্তত ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে মোবাইল আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সিদ্ধান্তের ফলে ৩০,০০০ টাকার বেশি দামের অফিশিয়াল আমদানি করা স্মার্টফোনগুলোর দাম প্রায় ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়েছিল, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের পারিবারিক বাজেটের ওপর চাপ কমিয়ে ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
একই সময়ে দেশে সংযোজিত (Local Assembly) ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল ফোনগুলোর দামও আনুমানিক ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছিল। তবে এই শুল্ক ছাড়ের সুবিধা মূলত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের প্রিমিয়াম বা ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোই বেশি পেয়েছিল; এর চেয়ে কম দামের বাজেট ফোনগুলোর দাম কমেছিল মাত্র ১ শতাংশের মতো।
আমদানিকারক ও বাজেট বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী ৩০ জুন এই অস্থায়ী শুল্ক ছাড়ের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন বাজেটে যদি এই ছাড়ের মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা না হয়, তবে করের হার আবার আগের চড়া অবস্থায় ফিরে যাবে।
পাশাপাশি, নতুন অর্থবছরে যদি রেগুলেটরি ডিউটি বা নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরও বাড়ানো হয়, তবে সামগ্রিক করের বোঝা অনেক বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরা বাজারে। ১ জুলাই থেকে নতুন করে আমদানি করা প্রতিটি হ্যান্ডসেটে ক্রেতাকে মডেলভেদে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হবে।
মোবাইল ফোন আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মতে, শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে এক লাফে দাম এত বেশি বেড়ে গেলে বৈধ পথে ফোন আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
শুল্ক বৃদ্ধির এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ক্রেতা সাধারণের ওপর চাপ: মধ্যবিত্ত ও তরুণদের জন্য অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ একটি ভালো মানের স্মার্টফোন কেনা আবার নাগালের বাইরে চলে যাবে।
কালোবাজার বা গ্রে মার্কেটের উত্থান: বৈধ ফোনের দাম আকস্মিক বাড়লে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আসা অবৈধ ও ক্লোন ফোনের কালোবাজার আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে, যা সরকারের রাজস্ব আয়কে সংকুচিত করবে।
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ব্যাহত: ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন শিক্ষার মতো জরুরি খাতের প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়তে পারে।
জুনের পর স্মার্টফোনের ওপর কর আরোপের বিষয়ে সরকার তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের প্রযুক্তি বাজারের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।




















