গত মাসে চীনা বাজারে শক্তিশালী প্রসেসরসহ ‘রেনো ১৬’ এবং ‘রেনো ১৬ প্রো’ উন্মোচন করে বেশ সাড়া ফেলেছিল বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট অপো (Oppo)। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে ডিভাইসগুলো অবমুক্ত করার জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে গ্লোবাল মার্কেটে আসার আগেই লিকস এবং বেঞ্চমার্কিং প্ল্যাটফর্ম ‘গিকবেঞ্চ’ (Geekbench)-এর তালিকা থেকে জানা গেছে, চীনের মূল সংস্করণের তুলনায় আন্তর্জাতিক বা বৈশ্বিক সংস্করণের চিপসেটে (Processor) বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে অপো।
রেনো ১৬ প্রো-এর গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্টের মডেল নম্বর, গিকবেঞ্চ স্কোর এবং সম্ভাব্য চিপসেটের বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
মডেল নম্বর ও চিপসেটের পরিবর্তন
গিকবেঞ্চের সাম্প্রতিক লিস্টিং অনুযায়ী, CPH2863 মডেল নম্বরের একটি আসন্ন অপো স্মার্টফোন প্ল্যাটফর্মটিতে টেস্ট করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এই মডেল নম্বরটি মূলত ‘Oppo Reno 16 Pro’-এর গ্লোবাল সংস্করণের।
তালিকাটির মেটাডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রেনো ১৬ প্রো-এর বৈশ্বিক সংস্করণটি মিডিয়াটেকের MT6899 মডেলের একটি চিপ দ্বারা চালিত। এর সিপিইউ (CPU) কনফিগারেশন এবং জিপিইউ (GPU) বিবরণ ইঙ্গিত করে যে, এটি মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৫০০ (Dimensity 8500) চিপসেট।
প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য, চীনে লঞ্চ হওয়া রেনো ১৬ প্রো-এর মূল সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছিল আরও শক্তিশালী ডাইমেনসিটি ৯৫০০এস চিপসেট। আর বেস মডেল রেনো ১৬-এর চাইনিজ সংস্করণে ছিল ডাইমেনসিটি ৮৫৫০ সুপার চিপ।
ডাইমেনসিটি ৮৫৫০ বনাম ৮৫৫০ সুপার
তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ডাইমেনসিটি ৮৫৫০ সুপার এবং সাধারণ ডাইমেনসিটি ৮৫৫০ চিপসেটের মূল সিপিইউ ও জিপিইউ স্পেসিফিকেশন বা কাজের ক্ষমতা একই। তবে ‘সুপার’ সংস্করণটি মূলত অন-ডিভাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সম্পর্কিত উন্নত ফিচারগুলো প্রসেস করার জন্য বিশেষভাবে অপ্টিমাইজড। গিকবেঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল রেনো ১৬ প্রো-এর চিপসেটটি ডাইমেনসিটি ৮৫৫০ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এর আগে রেনো ১৬-এর গ্লোবাল সংস্করণে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেট থাকার তথ্যও গিকবেঞ্চে ফাঁস হয়েছিল।
গিকবেঞ্চ স্কোর ও অন্যান্য স্পেসিফিকেশন
বেঞ্চমার্কিং প্ল্যাটফর্মটির টেস্ট রান থেকে রেনো ১৬ প্রো-এর গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্টের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কনফিগারেশন সামনে এসেছে:
র্যাম ও অপারেটিং সিস্টেম: ডিভাইসটিতে শক্তিশালী ১২ জিবি (12GB) র্যাম থাকছে এবং এটি গুগলের সর্বাধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি অপোর নিজস্ব কালারওএস (ColorOS) স্কিনে চলবে।
টেস্ট স্কোর: গিকবেঞ্চের সিঙ্গেল-কোর (Single-core) এবং মাল্টি-কোর (Multi-core) পরীক্ষায় ডিভাইসটি যথাক্রমে ১,৫৭৫ এবং ৫,৮৮৯ পয়েন্ট স্কোর করেছে, যা আপার মিড-রেঞ্জ ও ফ্ল্যাগশিপ-কিলার সেগমেন্টের জন্য বেশ শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত দেয়।
ফাস্ট চার্জিং: যদিও রেনো ১৬ প্রো-এর বৈশ্বিক সংস্করণ সম্পর্কে অন্যান্য তথ্য এখনও কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছে, তবে গত মার্চ মাসে সম্পন্ন হওয়া একটি ‘TÜV’ সার্টিফিকেশন তালিকার তথ্য অনুযায়ী, ফোনটিতে ৮০ ওয়াট সুপারভুক (SuperVOOC) ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে।
লাইনআপে থাকছে ‘রেনো ১৬এফ’ এবং জুলাইয়ে লঞ্চের সম্ভাবনা
প্রযুক্তি বাজারের গুঞ্জন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপো কেবল দুটি মডেলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রেনো ১৬ এবং রেনো ১৬ প্রো ছাড়াও বৈশ্বিক লাইনআপে ‘Reno 16F’ নামে আরও একটি তৃতীয় সাশ্রয়ী মডেল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই ডিভাইসটি মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি ৭৩০০ (Dimensity 7300) চিপসেট দ্বারা চালিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসের শুরুতেই একাধিক গ্লোবাল মার্কেটে একযোগে আত্মপ্রকাশ করতে পারে অপো রেনো ১৬ সিরিজ। ফলস্বরূপ, অপো আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলোতে এই লাইনআপের অফিশিয়াল টিজার প্রকাশ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





















