আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা, যোগাযোগ ও কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স, ইন্টারনেট ও স্মার্ট ডিভাইস ভবিষ্যৎকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।
আমি মনে করি, শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রাখা নয়, বরং এর সঠিক ও সৃজনশীল ব্যবহার শেখানোই আমাদের দায়িত্ব। কারণ আগামী দিনের পৃথিবী হবে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। তবে প্রযুক্তি যেন শিশুর জীবনে জ্ঞান ও সৃজনশীলতার পরিবর্তে অতিরিক্ত বিনোদনের মাধ্যম হয়ে না ওঠে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
দীর্ঘ সময় মোবাইল গেম, ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকার ফলে শিশুরা খেলাধুলা, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যেতে পারে। অথচ একটি শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য শারীরিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে।
এক্ষেত্রে সচেতন Parenting বা অভিভাবকত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মোবাইল ব্যবহার নিষেধ করলেই হবে না; সন্তানকে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার শেখানোর পাশাপাশি একটি সুন্দর বিকল্প পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
অভিভাবকদের জন্য করণীয়
● বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্থ সীমা ও পারিবারিক নিয়ম তৈরি করা।
● মোবাইলের বিকল্প হিসেবে বই পড়া, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে সন্তানকে উৎসাহিত করা।
● সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা।
● অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা।
● সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাবা-মাকে নিজেদের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করা।
আমার বিশ্বাস, Technology, Physical Activity এবং Positive Parenting—এই তিনটির ভারসাম্যই নতুন প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের ভিত্তি হতে পারে। আমাদের সন্তানরা শুধু প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারকারী নয়, বরং প্রযুক্তির সৃজনশীল নির্মাতা হোক—একই সঙ্গে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ, মানসিকভাবে শক্তিশালী এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক।
কারণ ভবিষ্যতের সফল প্রজন্ম শুধু প্রযুক্তিতে দক্ষ হবে না; তারা হবে সুস্থ, সৃজনশীল, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক।





















