শান্তি চেষ্টার মাঝেই আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন পাততে চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে এবার টার্গেট করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ হামলাগুলো ছিল প্রতিরক্ষামূলক অভিযান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দোহায় অবস্থান করছেন। সোমবার সফরসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে দ্রুত কোনো সমঝোতা হবে—এমন সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
এর আগে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রয়োজন হলে ইরানকে ‘অন্য উপায়ে’ মোকাবিলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
রুবিও বলেন, “আলোচনার টেবিলে এখন বেশ শক্ত একটি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত, সময়ভিত্তিক আলোচনায় প্রবেশ করা। আমরা আশা করছি, এটি সফল হবে।”
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ট্রাম্প লেখেন, ‘এটি হয় সবার জন্য একটি বড় চুক্তি হবে, নয়তো কোনো চুক্তিই হবে না।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে নিজেদের সেনাদের সুরক্ষায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, “চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সংযম বজায় রেখে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষা করে যাচ্ছে।”
এদিকে একইদিনে ইরান জানায়, তারা নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি ‘শত্রু’ স্টেলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে, তা জানানো হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো।
বার্তা সংস্থা ফার্স অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, “এটি আমাদের পক্ষ থেকে একটি বার্তা—এখন থেকে আর কোনো স্টেলথ ড্রোন পারস্য উপসাগরের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারবে না।”
এদিকে অঞ্চলের উত্তেজনার আরেকটি ইঙ্গিত দিয়ে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও তীব্র হামলা চালাবে ইসরায়েল।
এর কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা লেবাননের পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, হিজবুল্লাহ ওই চুক্তির পক্ষ না হওয়ায় আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইসরায়েল এখনো বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটি।
এদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদের দোহা সফর সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আলোচনায় মূলত হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনায় অংশ নিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কাঠামোগত সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পরই কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধে তার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান যেন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। তবে তেহরান বরাবরই এমন পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।




















