নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ‘পৃথিবীর প্রথম স্টারফ্লিট’ গঠনের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করলেন। গতকাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মহাকাশ অভিযানের পরবর্তী ধাপ আর্তেমিস থ্রি মিশনের ক্রু তালিকা এবং চাঁদে মনুষ্য অভিযান সম্পর্কে জানালেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় থাকছে দুই সপ্তাহের একটি মিশন, এতে পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)-র ইতালীয় মহাকাশচারী লুকা পারমিতানো। আগামী বছর পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পরিচালিত এ মিশনে বেসরকারি কোম্পানি ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের চন্দ্র অবতরণ যান বা লুনার ল্যান্ডার পরীক্ষা করা হবে।
চার সদস্যের ওই টিমে আরো আছেন তিন মার্কিন মহাকাশচারী আন্দ্রে ডগলাস, ফ্র্যাঙ্ক রুবিও ও র্যান্ডি ব্রেসনিক। ২০২৮ সালে পরিকল্পিত আর্তেমিস ফোর মিশন, যা কিনা ৫৬ বছর পর চাঁদে প্রথমবার মানব অবতরণ— তার পথ তৈরি করবে দলটি।
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইজ্যাকম্যান জানান, পরীক্ষামূলক ফ্লাইট, পরবর্তী চাঁদের স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং ভবিষ্যৎ মিশনের জন্য একসঙ্গে অনেক রকেট, ক্যাপসুল, ল্যান্ডার ও সহায়ক মহাকাশযান প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে অনেকগুলো মহাকাশযান কল্পনা করুন। ড্রাগন, শেনঝৌ, সয়ুজ, সম্ভবত স্টারলাইনার, স্টারশিপ ও ব্লু অরিজিন ল্যান্ডার—সবই পৃথিবীর কক্ষপথে থাকবে, যেগুলো একদিন মানুষ বহন করবে।’
‘এটি আমাদের শৈশবে কল্পনা করা ভবিষ্যতের শুরু মনে হচ্ছে। আমার কাছে এটি পৃথিবীর প্রথম স্টারফ্লিটের সূচনা।’
গত এপ্রিলে আর্তেমিস টুর মহাকাশচারীরা সফলভাবে চাঁদের চারপাশের কক্ষপথ ঘুরে ফিরে আসেন। ওই সফরে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেট ও ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুল পরীক্ষা করা হয়।
অন্যদিকে, আর্টেমিস থ্রির অভিযাত্রীরা পৃথিবীর কাছাকাছি থাকবে এবং মূলত ডকিং প্রক্রিয়া ও জীবন সহায়ক ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে। এ পরীক্ষাগুলো বেসরকারি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লু অরিজিনের ব্লু মুন এবং স্পেসএক্সের হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেমের ভবিষ্যৎ চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি করতালি পান আর্টেমিস থ্রি ক্রু ও তাদের সহায়ক সদস্য বব হাইনস।
কমান্ডার র্যান্ডি ব্রেসনিক একজন মার্কিন মেরিন কর্নেল। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সাবেক এ কমান্ডারের ৭ হাজার ঘণ্টার বেশি উড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি স্পেস শাটল প্রোগ্রামেরও অভিজ্ঞ সদস্য।
ইতালীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার পাইলট লুকা পারমিতানো ২০১৩ সালে স্পেসওয়াকের সময় প্রায় মরতে বসেছিলেন। ওই সময় তার হেলমেটে পানি ঢুকে পড়ে। তার নামে একটি গ্রহাণুর নামকরণ করা হয়েছে এবং তিনি মহাকাশে প্রথম ডিজে হিসেবে পরিচিত।
আর্মি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার পাইলট ও ফ্লাইট সার্জন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। নাসার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ডধারী, ৩৭১ দিন।
আরেক ক্রু আন্দ্রে ডগলাসকোস্ট গার্ড রিজার্ভ অফিসার ও সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার। মহাকাশে উড়ার কোনো অভিজ্ঞতা নেই তার। তবে আর্তেমিস টুর ব্যাকআপ ক্রু হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।





















