বিদেশে পরিচালিত হুন্ডি ব্যবসায় চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তোলে অপরাধীরা। এরপর সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নামী চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি শুরু করে চক্রটি। ২২ আগস্ট, শনিবার রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) সম্প্রতি দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে এমন তথ্য উদ্ঘাটনের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে পপুলার হাসপাতালের সামনে নিজের চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর ডা. আসাদুর রহমানের ওপর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রটি হামলা চালায়। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো—ঘটনাস্থল, লক্ষ্মীপুর, যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও সাঁতারকুল এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আসা আসামী। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ সারা দেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নির্দিষ্ট সময়সীমা না বেঁধে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করে বলেন, এই অপরাধীদের বিচারে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুসরণ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে পুলিশের কোনো সদস্য যদি এদের সহায়তা বা ইন্ধন জোগায়, তবে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। এ ছাড়া কোনো চিকিৎসক ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলে এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যক্তিগত পিস্তল বা শর্টগানের লাইসেন্সের আবেদন করলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককেও দেখতে যান।



















