তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করা জনজীবনে একটু স্বস্তির আরেক নাম এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। সারাদিন রোদে-তাপে পুড়ে বাড়ি ফিরে এসির বাতাসে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর পরিকল্পনা সবারই থাকে। কিন্তু এই শীতল শান্তির আড়ালেই ওৎ পেতে বসে থাকতে পারে বড় বিপদ। সামান্য অসচেতনতা ও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে যেকোনো সময় এসির কম্প্রেসর আগুনের গোলায় পরিণত হতে পারে। সম্প্রতি দেশে এসি কেনার ধুম যেমন বেড়েছে, তেমনি রক্ষণাবেক্ষণের অজ্ঞানতায় বাড়ছে বিস্ফোরণের ঘটনাও।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এসি যখন একটানা চলতে থাকে, তখন তার ভেতরের কম্প্রেসর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘরের তাপমাত্রা বাইরে থেকে যত কমিয়ে আরাম পাওয়ার চেষ্টা করা হবে, এসির ভেতরের চাপ তত বেশি বাড়তে থাকবে। দীর্ঘদিন এসির সার্ভিসিং না করালে, ভেতরের ফ্যান বা কয়েল ধুলাবালিতে জ্যাম হয়ে গেলে কম্প্রেসর থেকে গ্যাস লিক করার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসিতে ব্যবহৃত এই রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায়, সামান্য আগুনের ফুলকি বা বৈদ্যুতিক স্পার্ক পেলেই তা গ্যাস সিলিন্ডারের মতোই সশব্দে ব্লাস্ট করতে পারে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসি বিস্ফোরণের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে রাতে। সারাদিন টানা চালানোর পর রাতেও সচেতনতা ছাড়াই লাগাতার এসি চালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। টানা ৮-১০ ঘণ্টা এসি চলার ফলে ঘরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে যায়। আধুনিক এসিতে টাইমার সেট করা বা ‘স্লিপ মোড’ ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও অনেকেই অলসতাবশত তা নেন না। এই গভীর ঘুমের মধ্যে যদি ঘরে বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাস লিক হতে শুরু করে, তবে বদ্ধ ঘরটি ধীরে ধীরে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয় এবং একপর্যায়ে তা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘুমে অচেতন মানুষ তখন প্রাণ বাঁচানোর সুযোগটুকুও পায় না।
এই জীবনঘাতী বিপদ থেকে বাঁচতে এবং এসি বিস্ফোরণ ঠেকাতে কিছু সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:
নিয়মিত প্রফেশনাল সার্ভিসিং: বছরে অন্তত দুই থেকে তিন বার দক্ষ টেকনিশিয়ান ডেকে এসির ইনডোর এবং বাইরের আউটডোর ইউনিট ভালো করে পরীক্ষা ও পরিষ্কার করান।
টাইমার ও স্লিপ মোডের ব্যবহার: রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই এসিতে টাইমার সেট করুন। এছাড়া আধুনিক এসির ‘স্লিপ মোড’ ফিচারটি ব্যবহার করলে ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ হয়, যা কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমায়। সারারাত পূর্ণগতিতে এসি চালানো সম্পূর্ণ অর্থহীন।
মানসম্মত ক্যাবল ও সার্কিট ব্রেকার: এসির সংযোগের জন্য কখনো সস্তা বা নিম্নমানের তার ও প্লাগ ব্যবহার করবেন না। উচ্চ বৈদ্যুতিক লোড সামলানোর জন্য এসির লাইনে সবসময় সঠিক রেটিংয়ের সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
অবহেলার অর্থ নিজের জীবন দিয়ে খেসারত দেওয়া। “আজ নয় কাল সার্ভিসিং করাবো”—এভাবে গড়িমসি করে ঘরে বড় বিপদ ডেকে আনবেন না। এসি চলার সময় ঘর থেকে কোনো রকম অদ্ভুত শব্দ, গ্যাসের গন্ধ কিংবা সামান্য আগুনের ফুলকি দেখা গেলেই দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন এবং অবিলম্বে টেকনিশিয়ানের শরণাপন্ন হোন।



















