আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) পূর্ণাঙ্গরূপে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। সরকারের এই পদক্ষেপে অবৈধ ও চোরাই ফোনের দৌরাত্ম্য কমার আশাবাদ তৈরি হলেও, উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের মোবাইল মার্কেটগুলোতে। অবৈধ ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী ‘মাফিয়া সিন্ডিকেট’ নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ে এবার চড়াও হয়েছে বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক এবং চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে গত কয়েকদিন ধরে বৈধ ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বক দোকান বন্ধ রাখতে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৈধ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করার চেষ্টা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৈধ ব্যবসায়ী টেকজুমকে বলেন, “এনইআইআর চালু হলে অবৈধ হ্যান্ডসেট বিক্রির পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কয়েকটি সিন্ডিকেট আগেভাগেই আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে পুরো বাজার অস্থিতিশীল করা যায়। দোকান খুললেই আমাদের নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে।”
ভুক্তভোগীরা জানান, সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছে—তাদের নির্দেশ অমান্য করে দোকান খোলা রাখলে দোকান দখল, শারীরিক নির্যাতন, এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট দামে অবৈধ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে বাধ্য করার অপচেষ্টাও চালাচ্ছে তারা।
অসহায় করদাতা ব্যবসায়ীরা
বসুন্ধরা মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকারের সব নিয়ম মেনে, ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করে বৈধভাবে হ্যান্ডসেট আমদানি ও বিক্রি করি। অথচ অবৈধ ব্যবসায়ীদের চাপে আমরা এখন অসহায়। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমরা শুধু নিরাপদে ব্যবসা করতে চাই।”
কেন এত বেপরোয়া সিন্ডিকেট?
বিশ্লেষকদের মতে, এনইআইআর কার্যকর হলে অনিবন্ধিত ও কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্কে সচল থাকবে না। এতে অবৈধ ফোনের বিশাল বাজার ধসে পড়বে। নিজেদের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় সিন্ডিকেটগুলো এখন মরণকামড় দিচ্ছে। তারা চাচ্ছে, বৈধ ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রেখে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং এনইআইআর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শুধু এনইআইআর বাস্তবায়নই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “অবৈধ সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দেশের মোবাইল শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান—উভয়ই মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”




















