নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাতে পেন্টাগন কালো তালিকাভুক্ত করায় মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির এআই জায়ান্ট অ্যানথ্রপিক। ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে বেআইনি ও প্রতিহিংসামূলক দাবি করে কোম্পানিটি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, সোমবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে অ্যানথ্রপিক। তাদের অভিযোগ, সরকার এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানিটিকে ‘সরবরাহ চেইনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বেআইনি ও কোম্পানির প্রথম সংশোধনী বা বাকস্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থী।
অ্যানথ্রপিকের এআই মডেলের ব্যবহার নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। কোম্পানিটি চাচ্ছিল তাদের এআই প্রযুক্তি যেন সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নজরদারি চালানো বা স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত না হয়।
অ্যানথ্রপিক ‘ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট’ ও ‘ওয়াশিংটন ডিসি সার্কিট’-এর আপিল আদালতে এসব মামলা দায়ের করেছে। বৃহস্পতিবার পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানিটিকে ‘সরবরাহ চেইনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্তির পরই তারা এই পদক্ষেপ নিল।
এই প্রথম কোনো মার্কিন কোম্পানির বিরুদ্ধে এ ধরনের কালো তালিকাভুক্তের অস্ত্র ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র। কোম্পানিটি আগেই বলেছিল, তারা সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়বে। কারণ, সরকারের এ নির্দেশের ফলে যারা সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করে তাদের সবাইকে অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়তে হচ্ছে, যা কোম্পানিটির ব্যবসার জন্য বিরাট এক হুমকি।
অ্যানথ্রপিকের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ওপর রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকার যা চাইছে তাতে রাজি না হওয়ায় তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অ্যানথ্রপিকের দাবি, সরকারের এ সিদ্ধান্ত তাদের বাকস্বাধীনতার লঙ্ঘন ও প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।
মামলায় অ্যানথ্রপিক বলেছে, “সরকারের এসব পদক্ষেপ অভূতপূর্ব ও বেআইনি। সংবিধান সরকারকে এমন কোনো বড় ক্ষমতা দেয় না, যা দিয়ে তারা একটি কোম্পানির বাকস্বাধীনতাকে দমন করতে বা তাদের শাস্তি দিতে পারে।”
অ্যানথ্রপিকের তৈরি এআই মডেল ‘ক্লড’ গত এক বছর ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে। কিছু দিন আগ পর্যন্ত, সরকারি গোপন বা ক্লাসিফাইড সিস্টেমে ব্যবহারের জন্য ক্লড’ই ছিল একমাত্র অনুমোদিত এআই মডেল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সামরিক অভিযানে ব্যাপকভাবে কোম্পানিটির এআই ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মিসাইল হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও রয়েছে।
অ্যানথ্রপিক মামলায় বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে এআই সরবরাহ করতে তারা এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ক্যালিফোর্নিয়া আদালতের মামলায় কোম্পানিটি আরও বলেছে, এর আগে বিশেষ প্রয়োজনে তাদের সিস্টেমগুলোতে পরিবর্তন আনার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছে তারা। সরকারের সঙ্গে এ আলোচনা বা সমঝোতা তারা চালিয়ে যেতে চায়।
অ্যানথ্রপিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার মানে এই নয় যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি বদলে গেছে, বরং আমাদের ব্যবসা, গ্রাহক ও পার্টনারদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করাসহ সমস্যা সমাধানের সবরকম পথ খোলা রাখব।”
এআই কোম্পানিটি মামলায় অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ও পেন্টাগনের এ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অ্যানথ্রপিকের ‘অপূরণীয় ক্ষতি করছে’।
মামলায় অ্যানথ্রপিক আরও অভিযোগ করেছে, “সরকার বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল এক কোম্পানির তৈরি করা অর্থনৈতিক মূল্য ধ্বংসের চেষ্টা করছে, অথচ এ কোম্পানিটি আমাদের জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান এক প্রযুক্তির দায়িত্বশীল বিকাশে নেতৃত্ব দিচ্ছে।”






















