স্মার্টফোনের সুরক্ষায় আমরা অনেকেই আঙুলের ছাপের চেয়ে মুখ শনাক্তকরণ বা ফেস আইডি পদ্ধতিকে বেশি আধুনিক ও সহজ মনে করি। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্যামসাং বা শাওমির মতো দামী ব্র্যান্ডের অনেক ফোনে কেবল একটি স্থির ছবি ব্যবহার করেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ফেলা সম্ভব হচ্ছে।
গবেষণায় উঠে আসা ভয়াবহ তথ্য
‘দ্য টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ১৩৩টি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এই দুর্বলতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ মডেল: তালিকায় রয়েছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ (Samsung Galaxy S25), অপ্পো ফাইন্ড এক্স৯ প্রো এবং মোটোরোলা রেজর ৫০-এর মতো ফ্ল্যাগশিপ ফোন।
ফাঁকি দেওয়ার পদ্ধতি: কোনো উন্নত হ্যাকিং টুল নয়, বরং সাধারণ একটি ছবি ক্যামেরার সামনে ধরলেই অনেক ফোন আনলক হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং অ্যাপ এবং গোপনীয় মেসেজ চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
কেন অ্যান্ড্রয়েড পিছিয়ে, অ্যাপল এগিয়ে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পার্থক্যের মূলে রয়েছে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত তফাত।
১. টু-ডি বনাম থ্রি-ডি: অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এখনো দ্বিমাত্রিক (2D) সফটওয়্যারনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা কেবল চোখের দূরত্ব বা মুখের জ্যামিতিক আকার দেখে। ফলে ছবি আর আসল মানুষের পার্থক্য ফোনটি ধরতে পারে না।
২. অ্যাপলের থ্রি-ডি সেন্সর: বিপরীতে আইফোনের ফেস আইডি উন্নত সেন্সর ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর মুখের একটি ত্রিমাত্রিক (3D) ম্যাপ তৈরি করে, যা ছবি বা মাস্ক দিয়ে ফাঁকি দেওয়া প্রায় অসম্ভব।
সমাধান কী?
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা যতক্ষণ না নিশ্চিত হচ্ছেন যে তাদের ফোনে উন্নত থ্রি-ডি স্ক্যানিং হার্ডওয়্যার আছে, ততক্ষণ ফেস আইডির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঠিক হবে না। নিরাপত্তার জন্য আঙুলের ছাপ (Fingerprint) বা শক্তিশালী পিন/প্যাটার্ন ব্যবহার করা অনেক বেশি কার্যকর।
তবে আশার কথা হলো, গুগল এবং স্যামসাং এখন নতুন প্রজন্মের ফোনগুলোতে সফটওয়্যার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে হার্ডওয়্যারনির্ভর নিরাপত্তা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে।



















