বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ গত কয়েক বছর ধরে দাবি করে আসছেন যে, মূল ধারার ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে ডেডিকেটেড ‘গেমিং স্মার্টফোন’ ধারণাটি এখন সেকেলে হয়ে পড়ছে। তবে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে চিজা প্রযুক্তি সংস্থা রেডম্যাজিক আন্তর্জাতিক বাজারে অবমুক্ত করেছে তাদের সর্বাধুনিক ফ্ল্যাগশিপ ‘রেডম্যাজিক ১১এস প্রো’ (RedMagic 11S Pro)।
তীব্র হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন এবং অভিনব কুলিং সিস্টেমের কারণে ডিভাইসটিকে এই মুহূর্তে অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের অন্যতম শক্তিশালী স্মার্টফোন হিসেবে বিবেচনা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর ও অ্যাক্টিভ কুলিং
চীনে উন্মোচনের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক বাজারে পা রাখা রেডম্যাজিক ১১এস প্রো-তে দেশীয় সংস্করণের সব প্রিমিয়াম ফিচার অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
প্রসেসর: ডিভাইসটির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রয়েছে কোয়ালকমের ওভারক্লকড চিপসেট স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ লিডিং ভার্সন (Snapdragon 8 Elite Gen 5 Leading Version)। রেডম্যাজিকের দাবি, এই চিপটি পূর্বসূরীর তুলনায় প্রায় ১৯% বেশি সিপিইউ পারফরম্যান্স এবং ২৪% পর্যন্ত বেশি জিপিইউ শক্তি দিতে সক্ষম।
কুলিং মেকানিজম: স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি আলট্রা সিরিজের মতো সমসাময়িক শীর্ষ দামের ফোনগুলোতে একই চিপসেট ব্যবহার করা হলেও, রেডম্যাজিক এখানে যুক্ত করেছে লিকুইড কুলিং প্রযুক্তির সাথে ২৪,০০০ আরপিএম (RPM) গতিসম্পন্ন একটি ফিজিক্যাল কুলিং ফ্যান। ফোনের স্বচ্ছ ব্যাক প্যানেলের (Transparent Design) কারণে এই ফিজিক্যাল ফ্যান ও আরজিবি লাইটিং বাইরে থেকেই দৃশ্যমান। দীর্ঘ সময় ভারী গেম খেলার পরও প্রসেসরকে ঠাণ্ডা রেখে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ধরে রাখাই এই অ্যাক্টিভ কুলিং সিস্টেমের লক্ষ্য।
পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিন ও ৭,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের দানবীয় ব্যাটারি
স্মার্টফোনটির ডিসপ্লে এবং পাওয়ার সেগমেন্টেও আনা হয়েছে বড় ধরনের চমক:
ডিসপ্লে: এতে রয়েছে ১৪৪ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং সর্বোচ্চ ১,৮০০ নিটস ব্রাইটনেস সংবলিত একটি ৬.৮৫-ইঞ্চি ওএলইডি (OLED) ডিসপ্লে। স্ক্রিনটিকে কোনো ধরনের নচ বা ক্যামেরা কাটআউট ছাড়া সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন (Seamless) রাখা হয়েছে, যা গেমার এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারকারীদের সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।
ব্যাটারি ও চার্জিং: প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এর ব্যাটারি ক্ষমতা নিয়ে। ফোনটিতে দেওয়া হয়েছে ৭,৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের (mAh) একটি দানবীয় ব্যাটারি। অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের শীর্ষ ফ্ল্যাগশিপগুলোর চেয়ে এই ব্যাটারি ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও ফোনটির সামগ্রিক ডিজাইন ও ওজনকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া এটি ৮০ ওয়াটের তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং এবং সমান গতির ৮০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে।
স্যামসাং-অ্যাপলের জন্য অস্বস্তির কারণ ‘মূল্য নির্ধারণ’
বিশ্ববাজারে রেডম্যাজিক ১১এস প্রো-এর আগমন এমন এক সময়ে ঘটল যখন আসুস (Asus)-এর মতো শীর্ষ ব্র্যান্ড তাদের বিখ্যাত ‘ROG’ গেমিং ফোন লাইনআপ আগামী বছর থেকে স্থগিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই সঙ্কুচিত হতে থাকা বাজারে রেডম্যাজিকের মূল্য নির্ধারণ কৌশল মূল ধারার ফ্ল্যাগশিপ নির্মাতা স্যামসাং এবং অ্যাপলের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১২ জিবি র্যাম / ২৫৬ জিবি স্টোরেজ (স্ট্যান্ডার্ড): প্রারম্ভিক মূল্য ৮৪৯ মার্কিন ডলার।
১৬ জিবি র্যাম / ৫১২ জিবি স্টোরেজ (হাই-এন্ড): মূল্য ৯৪৯ মার্কিন ডলার।
সমপরিমাণ প্রসেসিং ক্ষমতা এবং তুলনামূলক বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দেওয়া সত্ত্বেও আইফোন বা গ্যালাক্সি ফ্ল্যাগশিপের চেয়ে এই ডিভাইসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ক্যামেরা সেগমেন্টে আপস
চরম পারফরম্যান্সের দিকে শতভাগ নজর দিতে গিয়ে প্রথাগত গেমিং ফোনের মতোই এই ডিভাইসের ক্যামেরা সিস্টেমে কিছুটা আপস করতে হয়েছে। নচবিহীন ফুল-স্ক্রিন অভিজ্ঞতা দিতে গিয়ে স্ক্রিনের নিচে (Under-display) ব্যবহার করা হয়েছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, যার ছবির মান প্রথাগত সেলফি ক্যামেরার সমকক্ষ নয়। এছাড়া পেছনের ৫০ মেগাপিক্সেলের মূল লেন্স এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট হলেও মোবাইল ফটোগ্রাফির বাজারে অ্যাপল বা গুগলের প্রিমিয়াম অ্যালগরিদমের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।




















