গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তীব্র প্রতিবাদের মুখে অবশেষে গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য হলো আন্তর্জাতিক কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ার্লপুল বাংলাদেশ (Whirlpool Bangladesh)। দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিবিষয়ক নিউজ পোর্টাল ‘টেকজুম ডটটিভি’ (Techzoom.TV)-তে সংবাদ প্রকাশের পর, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিন রাফানের বোনের বাসায় ত্রুটিযুক্ত ফ্রিজটি পরিবর্তন (Replace) করে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফ্রিজ বুঝিয়ে দিয়েছে কোম্পানিটি।
তবে নতুন ফ্রিজ বুঝে পেলেও পণ্য ডেলিভারির আগের মান নিয়ন্ত্রণ (QC) প্রক্রিয়ার খামখেয়ালি এবং ঈদের সময় একটি পরিবারের বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হওয়ার দায় নিয়ে আবারও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে স্টার টেক লিমিটেডের (Star Tech Ltd.) মাধ্যমে নিজের বোনের জন্য ওয়ার্লপুলের একটি নতুন রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ অর্ডার করেছিলেন রবিন রাফান। কিন্তু ঈদের আগের দিন ফ্রিজটি চালু করার পর দেখা যায় এর নরমাল অংশটি কাজ করছে না এবং টেকনিশিয়ানরা এসে একদম নতুন ফ্রিজের ‘মোটর নষ্ট’ বলে তা মেরামতের অজুহাত দেখায়। রবিন রাফান নতুন ফ্রিজ মেরামত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তা পরিবর্তনের দাবি তুললে কোম্পানিটি রহস্যজনক নীরবতা ধারণ করে এবং গ্রাহক হয়রানি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।
পরবর্তীতে এই নিয়ে প্রযুক্তিবিষয়ক জনপ্রিয় পোর্টাল ‘টেকজুম ডটটিভি’-তে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিউজ হওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ওয়ার্লপুল কর্তৃপক্ষ এবং ত্রুটিযুক্ত ফ্রিজটি তুলে নিয়ে তার বদলে নতুন আরেকটি সচল ফ্রিজ রিপ্লেস করে দেয়।
রবিন রাফানের এই বক্তব্যটি দেশের সামগ্রিক কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স বাজারের জন্য একটি বড় বার্তা। বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো প্রবাসীদের বা সাধারণ ক্রেতাদের কষ্টের টাকায় কেনা পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপন দিলেও, ডেলিভারির আগে পণ্যটি শতভাগ সচল কি না তা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি দেখায়। রবিন রাফান একজন পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ায় এবং সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি আসায় তিনি দ্রুত সমাধান পেয়েছেন; কিন্তু প্রতিদিন দেশের হাজারো সাধারণ মানুষ নামী ব্র্যান্ডের পণ্য কিনে এভাবে হয়রানির শিকার হলেও কোনো সমাধান পান না।




















