আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণার আসরে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৪৫৮টি দলের সঙ্গে লড়াই করে শতভাগ সাফল্যের এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবকেরা। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতা ‘ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ (IWC) ২০২৬’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনোভেশন অ্যান্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন (I3C) ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশি ৯টি দলই গোল্ড মেডেলসহ মোট ১৮টি আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। আজ সোমবার (৮ জুন) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তরুণ বিজ্ঞানীদের এই অভাবনীয় সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী মেধার বিকাশ এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক এই বিশ্বমঞ্চে ‘ড্রিমস অব বাংলাদেশ’ (Dreams of Bangladesh)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও মেন্টরশিপের অধীনে বাংলাদেশ ডেলিগেশন অংশ নেয়। বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি এবং অ্যাডভান্সড রোবোটিক্সের মতো জটিল ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বমানের প্রজেক্ট প্রদর্শন করেন, যা আন্তর্জাতিক বিচারকদের উচ্চ প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়।
১৮টি গোল্ড মেডেলের পাশাপাশি বাংলাদেশি দলগুলো ৩টি স্পেশাল প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড এবং ১টি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘আইওয়াইএসএ (IYSA) স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড’ নিজেদের করে নিয়েছে। স্বর্ণপদক বিজয়ী বাংলাদেশি প্রজেক্টগুলোর মধ্যে রয়েছে—এআই বেসড সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম, ফায়ার ফাইটিং অ্যান্ড রেসকিউ রোবট, ডেল্টা-এক্স রোবট, মাল্টি-মোডাল ডিপফেক সিস্টেম, রিভারিক্স, অ্যাভেঞ্জার এমকে-২, অটোমেটিক ফিশ ব্রিডিং মেশিন এবং স্মার্ট হুইলচেয়ার ফর প্যারালাইজড পিপল। এর মধ্যে ‘এআই বেসড সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’, ‘ডেল্টা-এক্স রোবট’ এবং ‘স্মার্ট হুইলচেয়ার’ প্রজেক্ট তিনটি আন্তর্জাতিক বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে ‘স্পেশাল প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে। এছাড়া পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জন্য তৈরি বিশেষায়িত স্মার্ট হুইলচেয়ার প্রজেক্টটি আসরের অন্যতম শীর্ষ সম্মাননা ‘IYSA স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।
এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে বাংলাদেশ আইডব্লিউসি ডেলিগেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং ড্রিমস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মাহাদির ইসলাম বলেন, এই গৌরবময় সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা, সুযোগ ও মেন্টরশিপ পেলে বাংলাদেশের তরুণরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো বিশ্বসেরা প্রযুক্তিতে যেকোনো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জয়ী হতে পারে। ড্রিমস অব বাংলাদেশের ইভেন্ট ইন-চার্জ মেহেদী হাসান সৌরভ তরুণদের এই সৃজনশীলতাকে দেশের জন্য বড় শক্তির উৎস হিসেবে অভিহিত করেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের রোবোটিক্স, স্টেম (STEM) শিক্ষা ও এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, এই জয় বিশ্ববাসীর সামনে ডিজিটাল বাংলাদেশের মেধা ও সক্ষমতার এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিল।




















