দেশের ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইল অ্যাকসেসরিজের বাজারে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো সামান্য এদিক-ওদিক করে ক্রেতা ঠকানোর এক অভিনব ও হাস্যকর জালিয়াতির চিত্র সামনে এসেছে। বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘স্যামসাং’ (Samsung)-এর আইকনিক ফন্ট, লোগো এবং হুবহু বডি ডিজাইন নকল করে বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের ও ঝুঁকিপূর্ণ “সামসুদ্দিন” (Samsuddin) চার্জার। সাধারণ মানুষ দূর থেকে বা অসাবধানতাবশত এটিকে আসল স্যামসাং চার্জার মনে করে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে এই জালিয়াতির বিশদ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
অক্ষরের মারপ্যাঁচে আইনি ফাঁক খোঁজার চেষ্টা
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অসাধু আমদানিকারক ও স্থানীয় জালিয়াতি চক্র ‘Samsung’ বানানের আদলে একই রকম ফন্ট এবং দূর থেকে দেখতে হুবহু মিল রেখে ইংরেজি অক্ষরে ‘Samsuddin’ লিখে এই চার্জারগুলো তৈরি করেছে। চার্জারের প্লাস্টিক বডি, চার্জিং ডক এবং মোড়ক বা বক্সের ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যেন ক্রেতারা প্রথম দেখায় এটিকে আসল স্যামসাং-এর কোনো বিশেষ সংস্করণ মনে করেন। মূলত কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক আইন থেকে বাঁচতে বিক্রেতারা এই নামের অপকৌশল বেছে নিয়েছে, তবে সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
দ্রুত নষ্ট হওয়ার অভিযোগ, মোবাইল বিস্ফোরণের শঙ্কা
ইতোমধ্যেই এই ‘সামসুদ্দিন’ চার্জার কিনে প্রতারিত হয়েছেন এমন বেশ কয়েকজন ক্ষুব্ধ ক্রেতা কাছে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই নকল চার্জারগুলো ২-৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। চার্জ দেওয়ার সময় চার্জারটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং ফোন ফুল-চার্জ হতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি সময় নেয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের নামসর্বস্ব ও নকল চার্জারের ভেতরে কোনো ‘শর্ট সার্কিট প্রোটেকশন’ বা উন্নত ভোল্টেজ রেগুলেটর থাকে না। ফলে যেকোনো সময় ঘরের বৈদ্যুতিক লাইনে সামান্য ভোল্টেজ ওঠানামা করলে চার্জারটি বিস্ফোরিত হতে পারে। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ কারেন্ট প্রবাহের কারণে গ্রাহকের লাখ টাকা দামের স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড এবং ব্যাটারি চিরতরে ড্যামেজ বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।
খুচরা বাজারে ক্ষোভ, ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
মার্কেটে আসল ব্র্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে এভাবে দেদারসে মানহীন কপি পণ্য বিক্রি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও সাধারণ ভোক্তারা। অনেক সময় অল্প বয়সী তরুণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ ক্রেতারা, যারা ইংরেজি বানানের সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরতে পারেন না, তারাই মূলত এই ‘বাটপারি’র প্রধান শিকার হচ্ছেন।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP) এবং মোবাইল অ্যাকসেসরিজ ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তাদের মতে, চটকদার লোগো ব্যবহার করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা এবং নিম্নমানের পণ্য গছিয়ে দেওয়া দেশের ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ।





















