স্মার্টফোনের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে এবং দেশের স্থবির হয়ে পড়া প্রযুক্তি বাজারে ক্রেতার প্রবাহ ধরে রাখতে একটি বড় ধরনের ও নজিরবিহীন ব্যাংকিং উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টার বিশেষ পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য এই সংক্রান্ত একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে. এই নির্দেশনার আওতায় এখন থেকে দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে অত্যন্ত সহজ কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার আর্থিক সুবিধা পাবেন।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন গ্রুপের (সিম্ফনি মোবাইল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া শহীদ। বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একবারে ১৬ বা ২০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে একটি স্মার্টফোন কেনা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।”
এই বাস্তবমুখী সমস্যা সমাধানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে একটি বিশেষ রিটেল লোন ‘প্রোডাক্ট’ ডিজাইন বা নকশা করছে. এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কোনো প্রকার থার্ড-পার্টি (তৃতীয় পক্ষ) ফাইন্যান্সিয়াল এজেন্সি কিংবা ল্যাপটপ-মোবাইল শপের মধ্যস্থতা ও বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই কাস্টমাররা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট সুবিধার মাধ্যমে এই কিস্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
বাজার সংশ্লিষ্ট ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই কনজিউমার ক্রেডিট সুবিধা চালু হলে সাধারণ ক্রেতাদের ফোন কেনার শুরুতে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা বা ‘ক্যাপেক্স’ (মূলধনী ব্যয়) প্রদানের কোনো মানসিক ও আর্থিক চাপ থাকবে না। তবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার নিজস্ব অর্থায়ন ব্যয়ের (ফাইন্যান্সিং কস্ট) কারণে ফোনের চূড়ান্ত বাজারমূল্যের সঙ্গে সামান্য কিছু বাড়তি সুদ বা প্রসেসিং ফি যোগ হতে পারে।
তা সত্ত্বেও, দীর্ঘমেয়াদে ছোট ছোট ও সহজ মাসিক কিস্তিতে (EMI) টাকা শোধ করার সুযোগ থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবার, চাকুরিজীবী এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর থেকে এককালীন আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
গত কয়েক প্রান্তিক ধরেই ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, চিপ সংকট এবং উচ্চ করের কারণে দেশের বৈধ স্মার্টফোন বাজারে বিক্রিতে বড় ধরনের ধস বা খরা চলছিল। এই বিশেষ ব্যাংকিং স্কিমটি চালু হলে বাজারে বৈধ ফোনের চাহিদা ও বিক্রি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে. একই সঙ্গে দেশের প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সহজেই আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ফোর-জি বা ফাইভ-জি স্মার্টফোন ব্যবহারের সুবিধা নিতে পারবেন, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও বেগবান করবে।





















