বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দৌড়ে ভারতকে স্বনির্ভর করতে এক বিশাল মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান, ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। এখন থেকে ভারতের সাধারণ মানুষের প্রতিটি ফোন কল, মোবাইল অ্যাপ এবং ঘরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৯ জুন) মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত রিলায়েন্সের বার্ষিক সাধারণ সভায় মুকেশ আম্বানি তাঁর টেলিকম নেটওয়ার্ক ‘জিও’-র প্রায় ৫০ কোটি গ্রাহকের জন্য একগুচ্ছ অত্যাধুনিক এআই সেবা উন্মোচন করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি হলো ‘জিও কল এজেন্ট’। এটি মূলত একটি বিল্ট-ইন এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট, যা সাধারণ ফোন কলের মাঝেই যুক্ত হতে পারবে।
গ্রাহক চাইলে এটি কলের কথোপকথন টাইপ বা ট্রান্সক্রাইব করে দিতে পারবে, পুরো আলাপের সারসংক্ষেপ তৈরি করবে এবং শুধু মুখের কথায় বা ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে উবার ক্যাব বুকিং, খাবার অর্ডার কিংবা রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করার মতো কাজগুলো করে দেবে। আলাদা কোনো অ্যাপ ছাড়াই “হে জিও” বললেই এই সেবা চালু হয়ে যাবে।
এর পাশাপাশি মুকেশ আম্বানি নিয়ে এসেছেন ‘জিও টেলিফ্রেম’ নামের একটি স্মার্ট হোম ডিসপ্লে ডিভাইস। এটি ঘরে থাকা অবস্থায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পরিবারের সদস্যদের কাজের সূচি এবং নানা ধরনের জরুরি নোটিফিকেশন নিজে থেকেই স্ক্রিনে প্রদর্শন করবে। অন্যদিকে ‘মাইজিও’ অ্যাপটিকেও সম্পূর্ণ এআই চালিত করা হয়েছে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা সাধারণ ভাষায় কথা বলেই ই-সিম চালু করা কিংবা রোমিং প্ল্যান বেছে নেওয়ার মতো কাজগুলো করতে পারবেন।
৬৯ বছর বয়সী মুকেশ আম্বানি সভায় জোর দিয়ে বলেন, “ভারত কেবল অন্য দেশের তৈরি এআই প্রযুক্তির ক্রেতা হয়ে থাকবে না। ভারতকে এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবক, ব্যবহারকারী এবং বিশ্বনেতা হতে হবে।” এই লক্ষ্য পূরণে রিলায়েন্স ইতিমধ্যেই গুগল, মেটা এবং এনভিডিয়া-র মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে চুক্তি করেছে এবং ভারতে নিজস্ব এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ১ হাজার ১০০ কোটি (১১০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
এছাড়াও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে স্থানীয় ২২টি ভারতীয় ভাষায় কাজ করতে সক্ষম এমন কিছু বিশেষ সেবা চালু করেছে রিলায়েন্স। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ‘জিওহেলথআইকিউ’, শিক্ষার জন্য ‘জিওলার্নআইকিউ’, কৃষিকাজের জন্য ‘জিওকৃষিআইকিউ’ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ‘এআই ব্যাপার’।
একই সাথে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় খবর দিয়েছেন আম্বানি। তিনি জানান, পুঁজিবাজারে জিও-র বহুল প্রতীক্ষিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার জন্য ২৭ কোটি নতুন শেয়ার ইস্যু করার একটি খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জিও প্ল্যাটফর্মের পরিচালনা পর্ষদ। চলতি বছরে রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ পড়ে যাওয়ায়, কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে এবং জিও-র আইপিও-কে আকর্ষণীয় করতেই মুকেশ আম্বানি এই এআই চালিত নতুন ব্যবসায়িক মডেলের ওপর সবচেয়ে বেশি বাজি ধরছেন।




















