২৮ মে একাধিক ফেসবুক গ্রুপে ভোটার তালিকা বিক্রির পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে আসনভিত্তিক ও দেশব্যাপী ভোটার তালিকা ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে ৫০০টির বেশি পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। অন্তত ১৫টি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে এসব পোস্ট করা হয়। একই ধরনের ক্যাপশন ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রুপে ভোটার তালিকা বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
শুধু গ্রুপ পোস্ট নয়, ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও তালিকা বিক্রির প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ফেসবুক Ad Library-তে অন্তত পাঁচটি সক্রিয় বিজ্ঞাপন পাওয়া গেছে। সেখানে PDF আকারে Google Drive-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ডিসমিসল্যাব ২৫০ টাকা পরিশোধ করে একটি Google Drive লিংক সংগ্রহ করে। সেখানে আট বিভাগের নামে আলাদা ফোল্ডারে আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা পাওয়া যায়। যাচাই করে দেখা যায়, তালিকায় থাকা তথ্য বাস্তব ভোটারদের তথ্যের সঙ্গে মিলে গেছে।
তালিকায় ভোটারের নাম, ভোটার নম্বর, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, পেশা ও স্থায়ী ঠিকানাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে।
ফেসবুকের পাশাপাশি টেলিগ্রামেও ভোটার তালিকা ছড়িয়ে পড়ছে। একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে বিনামূল্যে বিভিন্ন এলাকার ভোটার তালিকা শেয়ার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ছবিসহ তালিকা প্রকাশের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের PDF আকারে ভোটার তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে এগুলো বিক্রি বা বিতরণের কোনো অনুমতি নির্বাচন কমিশন দেয়নি।
তিনি বলেন, প্রার্থীরা তালিকা প্রিন্ট করার সময় কম্পিউটার দোকান বা অন্য কোনো উৎস থেকে তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে।
ডিসমিসল্যাবের সঙ্গে কথা বলা এক বিক্রেতা দাবি করেন, তিনিও সামাজিক মাধ্যম থেকেই তালিকাটি সংগ্রহ করেছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, ফাঁস হওয়া তথ্য ব্যবহার করে জাল পরিচয়পত্র তৈরি, ব্যাংক জালিয়াতি, অনলাইন অ্যাকাউন্ট দখল এবং ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলে সাইবার অপরাধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট এবং তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন বা অন্য কোনো প্রয়োজনে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘Need-to-Know Principle’ অনুসরণ করা উচিত। অর্থাৎ, যতটুকু তথ্য অপরিহার্য, শুধু ততটুকুই সরবরাহ করা উচিত।




















