ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে নিজেদের অধিকাংশ দূরপাল্লার নির্ভুল নিশানায় আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষ করে ফেলেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ক্ষেপণাস্ত্রের এ ঘাটতি ভবিষ্যৎ সংঘাতের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। খবর বয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,, মার্কিন সেনাবাহিনী মূলত নিজেদের ভূখণ্ড থেকে ভূখণ্ডে নিক্ষেপযোগ্য সারফেস-টু-সারফেস অস্ত্র, বিশেষ করে আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)-এর ‘প্রায় সব’ ব্যবহার করে ফেলেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীতে এ দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কতটা আশঙ্কাজনক মাত্রায় কমেছে, কিংবা বর্তমানে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তা নিয়ে এর আগে কোথাও কোনও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
মজুদের তথ্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের একটি বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনও দেশের চেয়ে ‘অনেক বেশি পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে’ এবং তা প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি অস্ত্র উৎপাদন করছে এবং তাদের কারখানা ও সরঞ্জাম রেকর্ড মাত্রায় বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকরাও একমত যে, কামান ও বেশ কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র রেকর্ড মাত্রায় তৈরি হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চাহিদা পূরণে তা কম পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে বলেন, আমেরিকার সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশিত সময়ে ও স্থানে কার্যক্রম পরিচালনার সব সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে এ মজুদের হিসাব তুলে ধরা হয়। এতে অন্য কোনও সংকট দেখা দিলে কীভাবে মোকাবেলা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন কর্মকর্তারা। এক কর্মকর্তা জানান, পাইলটচালিত বিমান থেকে বোমা ফেলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে চলাই এটিএসিএমএস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের মূল কারণ। নতুন তৈরি হওয়ায় পিআরএসএম-এর মজুদ শুরুতেই কম ছিল। তবে সেনাবাহিনী এটিকে ২০২৭ সালের মধ্যে ব্যাপকভাবে বাড়ানোর বড় অর্ডার দিয়েছে।
দেশটির সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিবেদন অনুসারে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে তাদের মোট প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে এবং থাড (টিএইচএএডি) সিস্টেমের মজুত অন্তত ৩৮ শতাংশ কমে গেছে। পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক টমাহক ক্রুজ মিসাইলের বিশ্বব্যাপী মজুতের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি মার্কিন বাহিনী এরই মধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে।
প্রসঙ্গত, দূরপাল্লার এসব নিখুঁত অস্ত্র মার্কিন সামরিক শক্তির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নিরাপদ দূরত্বে থেকে নিখুঁত হামলা চালাতে সহায়তা করে। প্রতিটি অস্ত্রের পেছনে খরচ হয় ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় মার্কিন সরবরাহকৃত এটিএসিএমএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অন্যদিকে স্বল্প পাল্লার এটিএসিএমএস-কে প্রতিস্থাপন করতে আনা নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র হলো পিআরএসএম। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে যেকোনও সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রেও এ অস্ত্রগুলো অপরিহার্য।





















