বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিদেশি গণমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ যেকোনো তথ্য জানতে পারলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত দেশীয় গণমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করা গণমাধ্যমগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হবে এবং প্রয়োজনে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
৩০ জুন, মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদের উপস্থিতিতে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান।
ডিজিটাল সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “প্রান্তিক ও হাওর-বাওড় অঞ্চলের মানুষের ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি ওয়াই-ফাই হটস্পট চালু করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া যোগাযোগ খাতকে আরও আধুনিক করতে দেশের সব টোল প্লাজায় একটি সমন্বিত ইন্টিগ্রেটেড ট্যাগের মাধ্যমে ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ ব্যবস্থা চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।”
ব্রিফিংয়ে নতুন নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন দলটি ‘রিফর্মড আওয়ামী লীগ’ বা অন্য যে নামেই আসুক না কেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধিত বিধান কার্যকর রেখেই এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।”
চীনের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি নিয়ে তিনি জানান, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা নতুন করে পুনর্গঠন করছে। নদীশাসনের পাশাপাশি বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে বিদ্যমান ব্যারেজের পাশে আরও একটি নতুন ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষায় চীন সহযোগিতা করবে, তবে অর্থায়নের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এতে ভারতের সাথে সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সদ্য প্রকাশিত ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার দুর্নীতি ও ঘুষ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “এই দুর্নীতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা করেননি, তবে আমাদের সময়েও দুর্নীতি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি আমরা করছি না। দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ, এর কোনো তামাদি নেই। দুদক একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার, আওয়ামী লীগ কিংবা বর্তমান সরকার—সব আমলের দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং সরকার এতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”






















