ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করছে এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
৪ জুলাই, শনিবার চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাকিউআর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক।
অর্থমন্ত্রী বলেন, একবার কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবহার শুরু করলে নগদ অর্থ বহন, খুচরা ফেরত নেওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার প্রয়োজন হয় না। তরুণরা ইতোমধ্যে ডিজিটাল লেনদেনকে দ্রুত গ্রহণ করেছে। শুরুতে বয়স্কদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তারাও এ ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার মার্চেন্ট মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও কিউআরভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ডিজিটাল লেনদেন হচ্ছে। চলতি বছর এ লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এই পরিমাণ ৫ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা।
চট্টগ্রামে বাংলাকিউআরের ব্যবহার আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার পর চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনগরী ও ব্যবসাকেন্দ্র। তাই ডিজিটাল লেনদেনেও চট্টগ্রামকে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান ধরে রাখতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা এবং ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করে তোলা। বর্তমানে নগদ অর্থ ছাপানো, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। ক্যাশলেস ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এই ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে, যা জনগণের অর্থ সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




















