স্মার্টফোন কেনার সময় আমরা সাধারণত ব্যাটারি, ক্যামেরা কিংবা অন্যান্য ফিচারের ওপর গুরুত্ব দিই। কিন্তু ফোনের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য সফটওয়্যার আপডেট অত্যন্ত জরুরি। স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই ডিভাইসগুলোতে নতুন আপডেট ও সিকিউরিটি প্যাচ প্রদান করে। এই সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে ফোনটি সচল থাকলেও তা সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা চুরির ঝুঁকির মুখে পড়ে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে গুগল, অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের জনপ্রিয় কিছু মডেলের আপডেট সহায়তা বন্ধ হতে যাচ্ছে।
সফটওয়্যার আপডেট বন্ধ হয়ে গেলে ডিভাইসটি তাৎক্ষণিকভাবে অকেজো হয়ে যায় না, কিন্তু এটি আগের মতো নিরাপদ থাকে না। নতুন কোনো সিকিউরিটি প্যাচ না আসায় অপারেটিং সিস্টেমে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা সংশোধন করার সুযোগ থাকে না। ফলে হ্যাকারদের কবলে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং নতুন অ্যাপগুলো অনেক সময় পুরনো ভার্সনের অপারেটিং সিস্টেমে সঠিকভাবে কাজ করে না। তাই নিজের স্মার্টফোনের সাপোর্ট শেষ হওয়ার সময়সীমা জেনে রাখা প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
গুগল পিক্সেল ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হলো, পিক্সেল ৮ ও পরবর্তী মডেলগুলোতে ৭ বছরের সাপোর্ট থাকলেও পুরনো মডেলগুলোর ক্ষেত্রে সময়সীমা কিছুটা কম। ২০২৭ সালের মধ্যে পিক্সেল ৭, পিক্সেল ৭ প্রো, পিক্সেল ৬এ, পিক্সেল ৬ এবং পিক্সেল ৬ প্রো মডেলগুলোর সফটওয়্যার আপডেট বন্ধ হতে পারে। অন্যদিকে, অ্যাপল সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করলেও সাধারণত লঞ্চের ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত আইফোনগুলো আইওএস আপডেট পেয়ে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন আইওএস ২৭ আপডেটের পর আইফোন এসই ২০২০, আইফোন ১১, ১১ প্রো এবং ১১ প্রো ম্যাক্স মডেলগুলো বড় ধরনের কোনো আপডেট পাওয়া বন্ধ করতে পারে।
স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রে আপডেট প্রদানের সময়সীমা মডেলভেদে ভিন্ন হয়। ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের জন্য তারা সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত আপডেট দিলেও বাজেট স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এটি ৪ থেকে ৬ বছর হয়ে থাকে। ২০২৭ সালের শেষের দিকে স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১৪, এ৫৪ ৫জি, এস২৩ সিরিজ, জেড ফোল্ড৪, জেড ফ্লিপ৪, এ৫৩ ৫জি, এস২২ সিরিজ, এস২১ এফই ৫জি, জেড ফোল্ড৩ এবং জেড ফ্লিপ৩ মডেলের সাপোর্ট পর্যায়ক্রমে শেষ হয়ে যেতে পারে। আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি যদি এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নতুন ডিভাইসে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।




















