গ্রাহক, বিশেষ করে শিশুদের ‘সুরক্ষা’ দিতে ব্যর্থ হলে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় অংকের জরিমানা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইইউর শীর্ষ বিচার বিষয়ক কর্মকর্তা মাইকেল ম্যাকগ্রা সম্প্রতি এ তথ্য জানান। খবর এফটি।
অনলাইন মাধ্যমে ‘গ্রাহক সুরক্ষা’ বলতে মূলত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কৌশল ও ফাঁদ থেকে নিরাপদ রাখাকে বোঝায়।
ইউরোপীয় কমিশন জানায়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অনলাইন গ্রাহক সুরক্ষা বাড়ার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রস্তাব ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে কমবয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে কিনা, তা নিয়েও জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে। রোববার এ বিষয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামত শোনার পর আলোচনা আরো গতি পেয়েছে।
ইইউর বিচারবিষয়ক কমিশনার মাইকেল ম্যাকগ্রা বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, যা এ সংকটের সমাধান করবে। এটি এখন আর শুধু রাজনৈতিক মহলের আলোচনার বিষয় নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
কমিশন ২০২৬ সালের শেষে নতুন ‘ডিজিটাল ফেয়ারনেস’ বা ডিজিটাল ন্যায্যতা নিয়ম প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। এর আওতায় ওয়েবসাইট ও অ্যাপের আসক্তিমূলক ডিজাইন, সাবস্ক্রিপশন ফাঁদ ও অন্যান্য ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বা কৌশলী নকশা বন্ধ করা হবে, যা মানুষকে অনলাইনে অর্থ খরচ করতে প্ররোচিত করে। এসব নিয়ম শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সীমিত করার পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলো গ্রাহক সুরক্ষার নিয়মগুলো কার্যকর করার দায়িত্ব পালন করছে। তবে ম্যাকগ্রা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানিকে জরিমানা বা শাস্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে আইন অমান্যকারী বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো ভয় কাজ করছে না।
প্রস্তাবিত নতুন আইনের আওতায় কমিশন বড় প্রযুক্তি কোম্পানির পাশাপাশি ছোট অনলাইন ব্যবসায়ী বা ভিডিও গেম নির্মাতাদেরও জরিমানা করতে পারবে। তবে কমিশনের ভেতরে এখনো এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিকে পোল্যান্ড মনে করছে, এটি বর্তমানের ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্টের (ডিএসএ) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার মতো কিছু দেশ শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ বয়স যাচাই করার পদ্ধতিগুলো সহজেই ফাঁকি দেয়া যায়। সমালোচকদের মতে, এতে গোপনীয়তার সুরক্ষাও বিঘ্নিত হতে পারে।
ম্যাকগ্রা বলেন, নিষেধাজ্ঞা দেয়ার চেয়ে ওয়েবসাইটের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার ঘটানো বেশি জরুরি।



















