দেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্মের আশঙ্কাজনক বিস্তারের পেছনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং মোবাইল অপারেটরদের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিসিএ)। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ডিজিটাল পেমেন্টের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে এই আর্থিক ও সামাজিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল দেশের এক অভিযানে পুলিশ কর্তৃক প্রায় সাড়ে ছয় হাজার অবৈধ মোবাইল সিম উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নিয়ন্ত্রণ কমিশনের ব্যর্থতার কারণেই দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অনলাইন জুয়া। এই দায় বিটিআরসি কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। পাশাপাশি যত্রতত্রভাবে সিম বিক্রির যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার দায় মোবাইল অপারেটরদেরও নিতে হবে।”
মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। কিন্তু অনলাইন জুয়ার এই বিস্তার প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনলাইন জুয়া বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ লেনদেন ও প্রচারণার পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে ‘দ্য পাবলিক গ্যা্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ অনুযায়ী সব ধরনের জুয়া ও বেটিং আইনিভাবে নিষিদ্ধ। এরপরও বিভিন্ন বিদেশি বেটিং ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রকাশ্য প্রচারণার মাধ্যমে দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) বা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে, যা দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি পেশ করেছে:
১. অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও ডোমেইন দ্রুত শনাক্ত করে সম্পূর্ণ ব্লক করা।
২. জুয়ার অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত সন্দেহজনক মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংকিং হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা।
৩. মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত অবৈধ জুয়ার প্রচারণা ও বাল্ক এসএমএস (SMS)-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
৪. বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘স্থায়ী টাস্কফোর্স’ গঠন করা।
৫. অনলাইন জুয়ার অর্থায়ন, বিজ্ঞাপন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
সংগঠনটি মনে করে, শুধু সাময়িকভাবে কিছু ওয়েবসাইট ব্লক করাই এই ব্যাধি দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়। অবৈধ আর্থিক লেনদেন বন্ধ করা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অপব্যবহার রোধ এবং অনলাইন প্রচারণা—এই তিনটি মূল উৎসে একযোগে সমন্বিত আঘাত হানতে পারলে দেশে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল জালিয়াতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


















