ভারতের দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কে জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে—এমন দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম রিপাবলিক নিউজ ও নিউজ-১৮। সংবাদমাধ্যম দুটি এটিকে ‘ব্রেকিং নিউজ’ হিসেবেও প্রচার করেছে।
প্রচারিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ প্রকাশ্যে সিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ‘দুষ্কৃতিকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত ওই চিঠির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, চিঠিটিতে কোনো অফিসিয়াল রেজিস্টার্ড ঠিকানা, রেফারেন্স নম্বর কিংবা আনুষ্ঠানিক নথিতে ব্যবহৃত অন্যান্য বাধ্যতামূলক তথ্য নেই। এছাড়া জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ সাধারণত যে অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে, তার সঙ্গে প্রচারিত চিঠির নকশা ও বিন্যাসেরও মিল পাওয়া যায়নি।
একটি তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শনাক্তকরণ প্ল্যাটফর্মে বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চিঠিটি এআই ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র এআই শনাক্তকরণ টুলের ফলাফল কোনো নথিকে চূড়ান্তভাবে ভুয়া প্রমাণ করে না; এ বিষয়ে স্বাধীন ফরেনসিক যাচাই প্রয়োজন।
এদিকে, ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকে বিদেশি মদদপুষ্ট ও সরকারবিরোধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্দোলনকে বিদেশি সমর্থনপুষ্ট বা সরকারবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।





















