ফেসবুকের নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এতদিন মূলত পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং অর্থের বিনিময়ে পাওয়া মেটা ভেরিফায়েড (Meta Verified) গ্রাহকদের জন্য সীমিত ছিল। এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও পরিচয় যাচাইয়ের নতুন সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে মেটা।
প্রতিষ্ঠানটি ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ (Facebook Verified) নামে একটি নতুন ব্যাজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এবং এর উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি একজন বাস্তব ব্যক্তির বলে নিশ্চিত করা।
যেভাবে কাজ করবে
নতুন ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। মেটা সেই ভিডিওটি অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। কোম্পানির দাবি, পুরো প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।
যাদের জন্য
এই ব্যাজ পেতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং ভুয়া পরিচয় বা প্রতারণামূলক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না। পরিচয় যাচাই সফল হলে ব্যাজটি যুক্ত হবে।
ভেরিফায়েড ব্যাজটি শুরুতে প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিং-এ দেখা যাবে। ভবিষ্যতে এটি নিউজ ফিডেও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেটা ভেরিফায়েড থেকে পার্থক্য
মেটা জানিয়েছে, ফেসবুক ভেরিফায়েড এবং মেটা ভেরিফায়েড এক নয়।
ফেসবুক ভেরিফায়েড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এটি শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে, মেটা ভেরিফায়েড একটি অর্থের বিনিময়ে পাওয়া সাবস্ক্রিপশন সেবা, যেখানে নীল টিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত গ্রাহক সহায়তা, পরিচয় চুরি থেকে সুরক্ষা এবং বিভিন্ন প্রিমিয়াম সুবিধা দেওয়া হয়।
কেন এই উদ্যোগ
মেটার ভাষ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও পরিচয় তৈরি করা এখন আগের চেয়ে সহজ। ফলে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বেড়েছে।
নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পেছনে একজন বাস্তব ব্যক্তি রয়েছেন কি না। তবে কোম্পানি স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না; এটি কেবল পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ।
মেটা জানিয়েছে, ফিচারটি ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি উন্মুক্ত করা হবে, পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে প্রথম ধাপে কোন কোন দেশে এটি চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।



















