স্মার্টফোনের ক্যামেরায় বড় হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের বদলে সফটওয়্যার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর উন্নয়নেই কি সীমাবদ্ধ থাকছে শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো? অ্যাপলের আইফোন ১৮ প্রো ও গুগলের পিক্সেল ১১ প্রো ঘিরে এমন প্রশ্নের মধ্যেই এবার আলোচনায় এসেছে স্যামসাংয়ের সম্ভাব্য গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফোনঅ্যারেনার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোতে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে বড় পরিবর্তনের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কমেছে। নতুন প্রজন্মের ফোনে চিপ, ইমেজ প্রসেসিং ও এআই সুবিধার উন্নয়ন ঘটলেও ক্যামেরা সেন্সরের আকার বা লেন্স প্রযুক্তিতে একই মাত্রায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
অ্যাপল-গুগলের ক্যামেরা কৌশল
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অ্যাপল সাম্প্রতিক আইফোন প্রো মডেলগুলোতে ক্যামেরার সফটওয়্যার প্রসেসিং, ইমেজ সিগন্যাল প্রসেসিং ও এআইনির্ভর ফটোগ্রাফির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন প্রসেসর ও সফটওয়্যার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ছবির মান উন্নত করার চেষ্টা থাকলেও মূল ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত।
গুগলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিক্সেল সিরিজের অন্যতম শক্তি কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি। সফটওয়্যার ও এআইয়ের মাধ্যমে ছবি প্রক্রিয়াকরণে গুগল এগিয়ে থাকলেও চীনা নির্মাতাদের তুলনায় ক্যামেরা হার্ডওয়্যার উন্নয়নের গতি ধীর বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।
এস২৭ আল্ট্রায় বড় সেন্সর আসবে?
স্যামসাংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রায় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান ক্যামেরা সেটআপের কতটা পরিবর্তন করবে।
গ্যালাক্সি আল্ট্রা সিরিজে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা এবং একাধিক টেলিফটো লেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে স্যামসাং উচ্চমানের ক্যামেরা অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলো যখন বড় আকারের সেন্সর, উন্নত পেরিস্কোপ জুম এবং পরিবর্তনশীল অ্যাপারচারের মতো প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে, তখন স্যামসাংও ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে বড় পরিবর্তন আনবে কি না, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অ্যাপল ও গুগলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা যদি সফটওয়্যার ও এআইনির্ভর ক্যামেরা উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকেও এস২৭ আল্ট্রায় বড় ধরনের হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের ঝুঁকি নেওয়ার সম্ভাবনা কমতে পারে।
চীনা ব্র্যান্ডগুলোর বাড়ছে চাপ
ক্যামেরা প্রযুক্তিতে শাওমি, ভিভো ও অপোর মতো চীনা নির্মাতারা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রিমিয়াম ফোনে বড় আকারের ক্যামেরা সেন্সর, ১-ইঞ্চি সেন্সর, পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পেরিস্কোপ টেলিফটো লেন্স ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
ফলে শুধু এআই ও সফটওয়্যার প্রসেসিংয়ের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে ক্যামেরা বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখা কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
হার্ডওয়্যারেও পরিবর্তনের দাবি
ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের ক্রেতারা এখন শুধু নতুন প্রসেসর বা সফটওয়্যার আপডেটের চেয়ে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারেও দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে জুম, কম আলোতে ছবি এবং ডায়নামিক রেঞ্জের মতো ক্ষেত্রে বড় সেন্সর ও উন্নত অপটিকস সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই গ্যালাক্সি এস২৭ আল্ট্রা নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন—স্যামসাং কি প্রচলিত ক্যামেরা সেটআপ আরও পরিশীলিত করবে, নাকি বড় সেন্সর ও নতুন অপটিক্যাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সত্যিকারের হার্ডওয়্যার আপগ্রেড আনবে। তবে ফোনটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।




















