নতুন প্রজন্মের কম্পিউটার ম্যাক স্টুডিও (Mac Studio 2026) ও ম্যাক মিনি (Mac Mini 2026) উন্মোচনের পাশাপাশি নিজেদের নতুন প্রজন্মের প্রসেসর অ্যাপল সিলিকন এম৬ (M6) ও এম৫ আল্ট্রা (M5 Ultra) বাজারে এনেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল।
নতুন চিপ দুটিতে উন্নত প্রসেসিং ক্ষমতা, গ্রাফিক্স পারফরম্যান্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কাজের জন্য বিশেষ হার্ডওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি গ্রাফিক্স, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং এআই মডেল নিয়ে কাজ করা ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করেই চিপ দুটির সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
২ ন্যানোমিটারে তৈরি এম৬
অ্যাপলের নতুন এম৬ চিপের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। চিপটিতে ১২ কোরের সিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি সুপার কোর, চারটি পারফরম্যান্স কোর এবং ছয়টি এফিশিয়েন্সি কোর।
অ্যাপলের দাবি, গত প্রজন্মের এম৫-এর তুলনায় এম৬ মাল্টি-থ্রেডেড কাজে প্রায় ১.২ গুণ বেশি পারফরম্যান্স দিতে পারে। এম১-এর তুলনায় এই সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় ২.৪ গুণ।
কোম্পানিটির দাবি, সিঙ্গেল-থ্রেডেড পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও এম৬ বিশ্বের দ্রুততম প্রসেসরগুলোর একটি।
গ্রাফিক্সের জন্য এতে দ্বিতীয় প্রজন্মের ডায়নামিক ক্যাশিং এবং হার্ডওয়্যার-অ্যাক্সিলারেটেড রে ট্রেসিং সুবিধা রাখা হয়েছে। চিপটি সর্বোচ্চ ৩২ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি এবং ৭০ জিবি/সেকেন্ড মেমোরি ব্যান্ডউইথ সমর্থন করে।
এআই কাজের জন্য এম৬-এ দুটি ১৬-কোর নিউরাল ইঞ্জিন রয়েছে। ফলে অন-ডিভাইস এআই প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে আগের প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে অ্যাপল।
এম৫ আল্ট্রায় কোয়াড-ডাই আর্কিটেকচার
পেশাদার ও উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিংয়ের জন্য তৈরি এম৫ আল্ট্রা চিপে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের নতুন কোয়াড-ডাই আর্কিটেকচার। UltraFusion প্রযুক্তির মাধ্যমে দুটি এম৫ ম্যাক্স চিপকে একত্র করে এই প্রসেসর তৈরি করা হয়েছে।
এতে রয়েছে ৩৬-কোর সিপিইউ, যার মধ্যে ১২টি সুপার কোর এবং ২৪টি পারফরম্যান্স কোর। অ্যাপলের হিসাবে, এম৩ আল্ট্রার তুলনায় এর সিঙ্গেল-থ্রেডেড পারফরম্যান্স প্রায় ১.২৫ গুণ বেশি।
গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য চিপটিতে রয়েছে ৮০-কোর জিপিইউ। কোম্পানিটির দাবি, এম৩ আল্ট্রার তুলনায় এটি ৪.৫ গুণ এবং এম১ আল্ট্রার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ দ্রুত গ্রাফিক্স প্রসেসিং করতে সক্ষম।
এআই ও ভিডিও এডিটিংয়ে বাড়তি সক্ষমতা
এম৫ আল্ট্রায় রয়েছে ৩২-কোর নিউরাল ইঞ্জিন। পাশাপাশি চারটি ProRes এনকোড ও ডিকোড ইঞ্জিন এবং হার্ডওয়্যার-অ্যাক্সিলারেটেড AV1 ডিকোড সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
মেমোরির ক্ষেত্রেও চিপটি বড় সক্ষমতা দিচ্ছে। এটি সর্বোচ্চ ৫১২ জিবি ইউনিফায়েড মেমোরি সমর্থন করে এবং মেমোরি ব্যান্ডউইথ সর্বোচ্চ ১.২ টেরাবাইট/সেকেন্ড।
ফলে বড় আকারের ভিডিও ফাইল সম্পাদনা, উচ্চ রেজুলেশনের গ্রাফিক্স রেন্ডারিং, থ্রিডি কনটেন্ট তৈরি এবং স্থানীয়ভাবে বড় এআই মডেল চালানোর মতো কাজে নতুন চিপটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিতে পারে।
অ্যাপলের নতুন ম্যাক স্টুডিও ও ম্যাক মিনির সঙ্গে এই চিপগুলোর সমন্বয় পেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্য ডেস্কটপ কম্পিউটিংয়ের সক্ষমতা আরও বাড়াবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।




















