বাংলাদেশ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পর্ষদ নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন বোর্ড। নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২৭ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় দেখা গেছে, ১১টি পরিচালক পদের বিপরীতে মোট ২৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে ১১টি পদের মধ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরি’তে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (রপ্তানি-১) তানিয়া ইসলাম। বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসচিব (রপ্তানি-২) নাসরিন সুলতানা এবং উপসচিব (রপ্তানি-৩) মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
কোন পদে কত প্রার্থী
প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। তারা হলেন—ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডের রাফেল কবির, ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের মোস্তফা রফিকুল ইসলাম, ডিভাইন আইটি লিমিটেডের ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান এবং ডিসেন্ট অ্যাক্ট ইন্টারন্যাশনালের এ কে এম আশরাফ উদ্দিন।
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন তিনজন—আইসিসি টেলিসার্ভিসেস লিমিটেডের সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক, রাইট ব্রেইন সলিউশন লিমিটেডের নূর মাহমুদ খান এবং টেক টেরেইন আইটির আনিসুল হক ভূঁইয়া।
ভাইস প্রেসিডেন্ট-এডমিন পদে প্রার্থী হয়েছেন স্মার্ট ল্যাবের হাসনাইন মোঃ রিয়াদ এবং স্কাইটেক সলিউশনসের মুসনাদ ই আহমদ।
ভাইস প্রেসিডেন্ট-ফিন্যান্স পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনার্জি ইন্টারফেস লিমিটেডের তানিয়া সুলতানা, ফিঙ্গারপ্রিন্টস ইনোভেশনস লিমিটেডের তৌফিকুল করিম সুহৃদ এবং ট্রেন্ডস বার্ড লিমিটেডের তানজিল আবেদীন।
ডাইরেক্টর-জেনারেল পদে রয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন—ট্রাস্ট আইটি বিডি লিমিটেডের মোঃ জুয়েল, বিডিটাস্ক লিমিটেডের সুমচ মোহাম্মদ তারেক, বিজেডএম গ্রাফিক্স লিমিটেডের আপেল মাহমুদ খান, ওএস ক্লিকসের মোঃ আবদুর রাজ্জাক রূপম, বাগসবিডি লিমিটেডের দেলোয়ার আলম, পালস টেক লিমিটেডের আরেফীন রাফি আহমেদ, প্রাইমেক্স ইনফরমেশন সিস্টেমসের আবদুল্লাহ আল মামুন, আতোভা টেকনোলজির ফেরদৌস আলম, ই-মেডিকেল সফটওয়্যার লিমিটেডের মোঃ রাশেদুল ইসলাম এবং রেড স্প্যারো লিমিটেডের মোঃ ফুয়াদ হাসান।
ডাইরেক্টর-অ্যাসোসিয়েট পদে প্রার্থী হয়েছেন বি ডেটা সলিউশনস লিমিটেডের সৈয়দ শফিউল আলম, সিসম্যাট্রিক্স টেকনোলজিস লিমিটেডের মোঃ জুবাযের রিয়েল এবং গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের আহমেদ আরমান সিদ্দিকী।
ডাইরেক্টর-অ্যাফিলিয়েট পদে একমাত্র প্রার্থী ক্রিয়েটো ডিজাইন রিসার্চ ল্যাব লিমিটেডের সুমাইয়া ইসলাম।
আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে প্রার্থী নেই
প্রাথমিক প্রার্থীতালিকার সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরি’। ১১টি পরিচালক পদের একটি এই ক্যাটাগরির জন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি।
বেসিসে মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮৮২-এর বেশি হলেও আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরিতে সদস্য রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। ফলে এত অল্পসংখ্যক সদস্যের জন্য আলাদা একটি পরিচালক পদ রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর এ বিষয়ে বলেন, “গত দেড় বছরে মন্ত্রণালয় অ্যাসোসিয়েশনকে ধ্বংস করছে। ফলে নির্বাচনে সদস্যদের আগ্রহ কমে গেছে। এছাড়াও পাঁচজন সদস্যের জন্য একটি পদ থাকার কোনো প্রয়োজন দেখি না।”
মন্ত্রণালয় থেকে মনোনয়নপত্র
তফসিল অনুযায়ী ১৪ থেকে ২০ আগস্ট বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১২৩ ও ১২৬ নম্বর কক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া হয়।
এর আগে ১৪ মার্চ বেসিস সভাকক্ষে প্রশাসক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খানের সভাপতিত্বে তৃতীয় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেমোরেন্ডাম হালনাগাদ, সদস্যপদ নিরীক্ষা, ভোটার তালিকা, বাজেট এবং প্রশাসনিক অনুমোদনসহ নির্বাচনের বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (আইআইটি-২) মুর্শেদা জামান এবং নির্বাচন বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসক না থাকায় প্রশ্ন
গত ৬ জুলাই বেসিস প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংগঠনটির প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২৭ জুলাই মন্ত্রণালয়ের একটি দল বেসিস কার্যালয় পরিদর্শন করলেও এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের মন্ত্রণালয় থেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হয়েছে।
বেসিসের সাবেক নেতাদের কেউ কেউ পুরো প্রক্রিয়াটিকে অস্বস্তিকর হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা
নির্বাচন বোর্ডের প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, প্রাথমিক প্রার্থীতালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রার্থীদের সিআইবি রিপোর্ট, এনবিআর ক্লিয়ারেন্স এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যাচাই করা হবে। এসব যাচাইয়ে কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে পূর্ব নোটিশ ছাড়াই প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ফলে ২৬ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।





















